
কুষ্টিয়া - আজ ১৮ অক্টোবর ২১শে পদক প্রাপ্ত কবি আজিজুর রহমানের ৯৭ তম জন্মবার্ষিকী। দীর্ঘ ১যুগ পরে হলেও কুষ্টিয়াতে অনুষ্ঠানিকভাবে কবির জন্মদিন পালনের উদ্দ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আজ বিকেল সাড়ে ৪ টায় গ ও কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলীর সার্বিক সহযোগিতায় পৌর বিজয় উল্লাস চত্বরে কবি আজিজুর রহমানের ৯৭তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হবে কবির জীবনী নিয়ে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক বনমালী ভৌমিক। সভাপতিত্ব করবেন কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী। অতিথি হিসেবে থাকবেন বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বগণ।
এদেশের সর্বোচ্চ সম্মান,একুশ পদক প্রাপ্ত কবি আজিজুর রহমানের স্মৃতি রক্ষার্থে আজও সরকারীভাবে তাঁর স্মৃতি সংরক্ষন ও স্মৃতি চারণে নেয়া হয়নি কোন পদক্ষেপ। অবহেলিত অবস্থায় পরে আছে তাঁর বাসত্মভিটা ও সমাহিত চত্বর। একপর্যায়ে নিশ্চিহ্ন হতে বসেছে তাঁর সমাধিস্থলসহ সকল স্মৃতিময় স্থান ও কর্মকান্ড। কবি আজিজুর রহমান প্রায় ৩ হাজারের অধিক গান লিখেছেন। তাঁর জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘‘ভবের নাট্যশালায় মানুষ চেনা দায় রে’’, ‘‘কারো মনে তুমি দিওনা আঘাত, সে আঘাত লাগে কাবার ঘরে’’, ‘‘আকাশের ঐ মিটি মিটি তারার সাথে কইবো কথা , নাই বা তুমি এলে’’, ‘‘পৃথিবীর এই পান্থশালায়, হায় পথ ভোলা কবি’’, ‘‘আমি রূপনগরের রাজকন্যা রূপের জাদু এনেছি’’, ‘‘বুঝি না মন যে দোলে বাশির ও সুরে’’, ‘‘দেখ ভেবে তুই মন, আপন চেয়ে পর ভালো’’, ‘‘পলাশ ঢাকা কোকিল ডাকা আমারই দেশ ভাইরে’’ ইত্যাদি। অথচ এই জনপ্রিয় গানগুলো আজ সংরক্ষনের অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই কবির গানগুলো সংরক্ষনের উদ্যোগ নেয়ার জন্য এবং প্রতিবছর সরকারীভাবে জেলা প্রশাসনের তত্বাবধানে কবির জন্ম ও মৃত্যু বার্ষিকী পালনের জোর দাবী জানান কবি পরিবার।
কবির সংক্ষিপ্ত জীবনীঃ- একুশে পদকধারী কবি, গীতিকার ও বেতার ব্যক্তিত্ব আজিজুর রহমান ১৯১৪ সালের ১৮ অক্টোবর কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর গ্রামের জমিদার বংশে জন্ম গ্রহন করেন। তাঁর পিতা মরহুম বশির উদ্দিন প্রামানিক ও মাতা সবুরুননেছা। গড়াই নদীর নিসর্গ সৌন্দয্য তাঁকে সব সময় মোহিত করে রাখত। ১২ বছর বয়সে কবি (১৯২৭) পিতাকে হারান। সে সময় বাবার জমিদারী দেখাশুনার দায়িত্ব পরে কবির উপর। উচ্চ শিক্ষা লাভের ভাগ্য না থাকলেও প্রবল ইচ্ছা ও অনুসন্ধিৎসার ফলে বহু বিষয়ক পুসত্মকাদি স্বগৃহে পাঠ করে তিনি একজন স্বশিক্ষিত ব্যক্তিত্বে পরিনত হন। সাহিত্য চর্চা শুরুর আগে নাটকের অভিনয়ে তাঁর উৎসাহ ছিল বেশী।
তিনি পুরাতন অভিনেতাদের নিয়ে গড়ে তোলেন একটি নাট্য দল। সেই নাট্য দলটি অভিনয় করতেন শিলাইদহ এর ঠাকুর বাড়িতে। এই কাজের জন্য সে সময় কুষ্টিয়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তাঁর সুনাম ও খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। সে কালের বিশিষ্ট অভিনেতা ধীরেন দত্ত, উপেশ ঠাকুরসহ বিভিন্ন নামি দামি অভিনেতারা অংশ গ্রহন করতেন তাঁর নাট্য দলে। সমাজ সেবায় কবি ছিলেন একজন নিবেদিত প্রাণ। ১৯৩৪ সালে তিনি তাঁর পিতা মহো চাঁদ প্রামানিকের নামে হরিপুর গ্রামে গড়ে তোলেন চাঁদ স্মৃতি পাঠাগার। এটি অত্যমত্ম সমৃদ্ধ একটি পাঠাগার ছিল। দুর দুরামত্ম থেকে মানুষ বই এর খোঁজে আসতেন এই পাঠাগারে। তাঁর সাংগঠনিক ক্ষমতা ছিল প্রবল। ঈদের দিনে গড়াই নদীতে তাঁর আয়োজনে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা এর প্রমাণ মেলে।
পদক প্রাপ্তঃ কবির জীবন দর্শায় তেমন কোন সম্মাননা না পেলেও ১৯৭৯ সালে মরণোত্তর রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত হন।
মুস্তাফিজুর রহমান পলাশ:: অল টাইম নিউজ::
| Tweet |