দোষ দিবো কাকে, মেয়ে নাকি ছেলেকে?
ভাবনা-নিলা (ছদ্মনাম)। মেয়েটা খুবই চমৎকার। সাবলীল তার বচন, সদা হাসিমাখা চেহারা। ক্লাসে সবার সাথেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। একদিন স্যার, একটা এসাইনমেন্ট রেডী করতে ক্লাসের কয়েকজনকে গ্রুপে ভাগ করলেন। নিলার গ্রুপে পড়ল দুটো ছেলে সহপাঠী। তারা তিনজন সিদ্ধান্ত নিলো, প্রতিষ্ঠানের বাইরে কোথাও একসাথে এসাইনমেন্ট রেডী করবে। যেই কথা, সেই কাজ। এসাইনমেন্ট শেষে শাহেদ তার বাসায় চলে গেল, কিন্তু সুমনের তখনও কিছু বুঝতে বাকি। তাই নিলাকে তার মেসে যাওয়ার কথা বলে। নিলা নির্দ্বিধায় রাজি হয়ে যায়। পরবর্তীতে প্রয়োজনের বাইরেও তাদের মাঝে ফোনে টুকটাক কথা হয়। কয়েকদিন পর নিলা আর ক্লাসে আসে না। খবর নিয়ে জানা গেল- সুমন নিলাকে ভালোবাসার প্রস্তাব দেয়, যা নিলার পছন্দ হয় নি। না হওয়ার পিছনে কারণ- (নিলার বক্তব্য) আমি তো সুমন কে সেই দৃষ্টিতে দেখি না, সে কেন আমাকে ভালোবাসবে? আমি ক্লাসের ছেলেমেয়ে সবার সাথেই বন্ধুত্বপূণ আচরণ করি, কারো মধ্যে পার্থক্য করি না। সেই হিসাবে সুমনের সাথেও কথা বলেছি। এখন সে কেন আমাকে ভালোবাসবে? আমি কি তাকে বলেছি? আমি আর ক্লাসেই আসব না। দরকার নেই এই ট্রেনিং করার। সমাজে এমন ঘটনা নতুন কিছু নয়। অহরহ ভালোবাসা হচ্ছে, ভাঙছে। প্রশ্ন হলো উপরের ঘটনায় আমরা কাকে দোষ দিবো? ছেলেটার ভালোবাসাকে নাকি নিলার সুমনের সাথে কথা বলাকে? আসলে দোষটা উভয়ের। যে নৈতিকতা, বুদ্ধিমত্তা, বিচক্ষনতা ছেলে-মেয়েদের মধ্যে থাকা উচিত, সেই সবের অভাবেই বর্তমান সমাজে, ভালোবাসা এক অপরাধের রূপ ধারণ করছে। কাউকে ভালোলাগাটা অপরাধ নয়। ভালোবাসার কথা বলাটাও অপরাধের কিছু না, ফাতেমা মাহফুজ::অল টাইম নিউজ::