
তাওয়াক্কুল কারমান। ৩২ বছর বয়সী এক ইয়েমেনী নারী। তিন সন্তানের জননী। পেশায় একজন সাংবাদিক ও মানবাধীকার কর্মী। শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইয়েমেন প্রেসিডেন্ট আলী আব্দুল্লাহ সালেহ’র বিরোধীতা করায় কয়েকবার জেলেও যেতে হয়েছে।
তিনি বিরোধী আন্দোলনের কৌশল নিয়ে আলোচনা রত অবস্থায়, শান্তির জন্য নোবেল পুরুস্কারের সুসংবাদ পান। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই সালেহ বিরোধীরা তার তাবুর চারপাশে জোড়ো হয়ে শুভেচ্ছা স্লোগানের মাধ্যমে অভিনন্দন জানায়।
আমরা জানি, পুরো ইয়েমেন জুড়েই চলছে সালেহ বিরোধী আন্দোলন। আর এরই মাঝে কারমানের নোবেল পুরুস্কার এক নব যুগের উম্মোচন করলো। তাই বিরোধীদের কাছে তিনি মাদার অব রেভুল্যুশন নামেও পরিচিত। তেমনি অনুভূতি প্রকাশ করে এক তরুণী বলেন- ‘আমরা আশাবাদী, এই শান্তি পুরুস্কার বর্তমান ইয়েমেনের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে প্রতিহত করবে ও শান্তির বার্তা বয়ে নিয়ে আসবে’।
শান্তির পথে কারমানের ক্লান্তিহীন প্রচার সত্ত্বেও তার নোবেল পুরুস্কার সবাইকে বিষ্ময় করেছিলো। সেই প্রসঙ্গে এক ব্লোগার বলেন- ‘দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন আশা করতে পারিনি। অবিশ্বাস্য!’
তাওয়াক্কুল কারমান ইয়েমেনের প্রধান বিরোধী ইসলামী পার্টি ‘ইসলাহ’র সদস্য। নারী সদস্যদের সমর্থন করায় তিনি ইসলাহকে সর্বোত্তম পার্টি হিসাবে বিবেচনা করেন। তবে নারীদের নির্দিষ্ট বয়ঃসীমার পর বিয়ে দেয়াকে সমর্থন করায়, পার্টির অনেক ইসলামী নেতাই তার বিরোধীতা করেন।
তিনি পার্টির প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধী করে বলেন-‘পার্টির জন্য যেমন যুবকদের প্রয়োজন, তেমনি তাদের সংগঠিত করার জন্যও কিছু পার্টির দরকার আছে’। অনেকেই কারমানের এই শান্তি পুরুস্কারকে ইয়েমেনে নারীজাগরণ হিসাবেও দেখেন।
সূত্রঃ গার্ডিয়ান।
ফাতেমা মাহফুজ::অল টাইম নিউজ::
| Tweet |