
উত্তরা-উত্তরা যাচ্ছিলাম। সেক্টর-১ এ বাস থামতেই চোখ পড়ল বিলবোর্ডের দিকে। চোখ ফিরাতে বাধ্য হলাম। ভাসাবি,শাড়ির বিজ্ঞাপন। যাতে একটি মেয়ে দেহের বিভিন্ন অংশ উন্মুক্ত অবস্থায় শাড়ি পরে আছে। এক কথায় কুরুচিপূর্ণ বিলবোর্ড। উল্লেখ্যঃ ভারতের ফ্যাশন জগতে ভাসাবি এক স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান। যার শোরুম ভারত ছাড়াও বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে রয়েছে।
দুঃখজনক হলেও সত্য যে, দেশে বিলবোর্ড ডিজাইনের উপর কোন আইন নেই। যে যার মত বিলবোর্ড বানাচ্ছে। তাই এগুলো সমাজে কি প্রভাব ফেলছে, সেই দিকে কারো কোন খেয়াল নেই। বিলবোর্ডের ডিজাইন প্রসঙ্গে বলতে-
১/ বিলবোর্ড হতে হবে আকর্ষনীয়, যেন মানুষ পণ্য কিনতে আগ্রহী হয়।
২/ এতে থাকবে একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা, কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে তা যেন বিরক্তিকর না হয়।
৩/ এটা পড়তে বা বুঝতে যাতে বেশি সময় না লাগে।
৪/ যেহেতু বিলবোর্ডের মাধ্যমে একটা কোম্পানির ধ্যান-ধারণা, মনোভাব ফুটে উঠে, তাই সে দিকে লক্ষ্য রেখেই ডিজাইন করা উচিত।
৫/ ছোট থেকে বড় সবাই বিলবোর্ডের দর্শক, তাই এটা দেখে কাউকে যাতে লজ্জায় পরতে না হয়, অথবা সমাজে যাতে অসভ্যতা না ছড়ায় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
কিন্তু ভাসাবির বিলবোর্ড অসভ্যতার বার্তা বহন করে তার পণ্যের প্রচার করছে। একটা দেশে ব্যবসা করতে এসে অবশ্যই সে দেশের সভ্যতা-সংস্কৃতি, মূল্যবোধের দিকে খেয়াল রাখা উচিত। তার চেয়ে বড় কথা, এই পৃথিবীতে আমরা এসেছি, সমাজকে সুন্দর করতে নচেৎ অসভ্যতা বা অশ্লীলতার পাঠ দিতে। তাহলে সে দিকে কেন আমাদের খেয়াল নেই? দুঃখজনক হলেও সত্য, অধিকাংশ ফ্যাশন হাউজেই ছেলেকে দেখা যায় সেরওয়ানী পরাতে (পারলে গায়ে একটা ওড়না(উত্তরীয়) জড়াতে) আর মেয়েদের দেখা যায় পাতলা শাড়ি পরিয়ে রাখতে (পারলে যতটা উন্মুক্ত করা যায়)। মেয়েদের প্রতি এমন বৈষম্য করে হয়ত তারা আত্মতৃপ্তি বোধ করেন!!!
ছোটবেলা থেকেই মা-দাদিকে শাড়ি পরতে দেখেছি। কিন্তু তাদের পরার ধরণের সাথে বর্তমান স্টাইলের বিস্তর পার্থক্য। প্রশ্ন হলো, পার্থক্য হলো কেন? তাদের স্টাইল কি ভুল ছিল? নাকি এখনকারটা সঠিক? আসলে লেটেস্ট ফ্যাশন নামে আমরা অসভ্যতাকে নিজেদের ব্যক্তিত্বে পরিনত করছি, সেই আলোকেই স্টাইল পরিবর্তন করছি। মা-দাদির মধ্যে যে লজ্জাবোধ ছিল, সেটা থেকে আমরা বের হওয়ার চেষ্টা করছি। আজ একটা শাড়ি পরার ক্ষেত্রেও আমরা ভারতীয় সিরিয়ালের মডেল যেভাবে পরছে, ঠিক তার অনুকরণ করার চেষ্টা করছি। ভালো-মন্দের বাছ-বিচার করছি না। এটাকেই আধুনিক যুগ হিসাবে আমাদের শিখানো হচ্ছে, আমরা নিজেদের সম্মান বিক্রি করছি, আর মোটা অংকের টাকা গুনছে অন্য কেউ। নতুন কিছু শিখতে,জানতে, মানতে সমস্যা নেই, তবে তা যেন আমাদের ধর্ম, ব্যক্তিত্ব, সভ্যতা-সংস্কৃতি বহির্ভূত না হয়।
যদিও আমি ভাসাবির প্রসঙ্গ তুলে লিখেছি, তবে দেশে অবস্থিত সব ফ্যাশন হাউজেরই খেয়াল রাখা উচিত, তাদের ফ্যাশন,বিজ্ঞাপন, এমনকি বিলবোর্ড যেন সভ্যতার বার্তাবাহক হয়। কুরুচিপূর্ণ ও অশ্লীল বিলবোর্ডগুলো সরিয়ে সুন্দর সমাজ গঠনের প্রতি সরকারসহ সকলের সচেতন পদক্ষেপ কামনা করছি।
ফাতেমা মাহফুজ::অল টাইম নিউজ::