সবার নৈতিকতা যদি নষ্ট হয়, তবে দূর্নীতি হবেই-ইভিএম প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার
ভাবনা-ইভোটিং তথা ইভিএম (ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন) নিয়ে সরকারী, বেসরকারী পর্যায়ে চলছে তুমুল বিতর্ক। ইভিএম নিয়ে সরকার সুষ্ঠ নির্বাচনের আশা ব্যক্ত করলেও ভোটচুরির আশংকায় বিরোধীদল এই সিস্টেমকে সমর্থন করছে না।

জানা যায়, ইভিএমের সাথে মডেম যুক্ত থাকায় হ্যাকিংয়ের সম্ভাবনা থাকে সেই সম্ভাবনাকে নাকোচ করে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বুয়েটের ইভিএম প্রজেক্টে নিয়োজিত এক ইঞ্জিনিয়ার বলেন-আমাদের তৈরি করা ইভিএমে মডেমের সংযোগ নেই, যে কারণে এখানে হ্যাকিংয়ের ভয় নেই। ভোটচুরির প্রসঙ্গে তিনি বলেন-এই মেশিনে ভোটচুরি করাটা খুবই কষ্টসাধ্য বিষয়। কেননা এক্ষেত্রে শুধু সফটওয়্যার নয়, বরং আইসি, মাইক্রো কন্ট্রোলার এমনকি পুরো সার্কিট পরিবর্তন করতে হবে।

তাছাড়া সফটওয়্যার পরিবর্তনের সময় কোড নাম্বারও মিলতে হবে। না মিললে মেশিন কাজ করবে না। আর এই কোড নাম্বার শুধু আমরাই জানি। তাছাড়া একটি মাত্র ভোটচুরির ক্ষেত্রেই যখন এতগুলো সিকিউরিটি পার করে আসা কষ্টসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ, সেই ক্ষেত্রে হাজার হাজার ভোট চুরি করা অনেকটাই অসম্ভব। ইভিএম প্রযুক্তি আগে কখনো নির্বাচনে ব্যবহৃত হয় নি। তাই অনেকেই নতুন এই মেশিনের সাথে পরিচিত নন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন- সিইসি থেকে কৃত্রিম ভোটের আয়োজন করা হয়েছিল। তাছাড়া এই মেশিনের কার্যপদ্ধতি ক্যাবল অপারেটারের কাছেও জমা দেয়া হয়েছে, যাতে প্রত্যেক এলাকার মানুষ জানতে পারে।

দূর্নীতির আশংকায় এই পদ্ধতি কতটা নিরাপদ, জানতে চাওয়ায় তিনি বলেন-এটা ঠিক দূর্নীতি সব জায়গায় আছে। তবে এর উপরে আরেকটা কথা হচ্ছে বিশ্বাস ও কর্তৃপক্ষের নৈতিকতা। সবার নৈতিকতা যদি নষ্ট হয়ে যায় তবে দূর্নীতি হবেই। আমি, আপনি আটকাতে পারবো না। তবে, আমরা যেহেতু মেশিন বানিয়েছি, তাই আমরা জানি, কি করলে ভোট পরিবর্তন করা যাবে। তাই সেক্ষেত্রে বলব, আমাদের নৈতিকতার উপর আস্থা রাখতে হবে। অপরদিকে এই মেশিনের নিরাপত্তা চার দিক দিয়ে বিঘ্নিত হতে পারে। কেননা সিইসি, তাদের ইঞ্জিনিয়ার, মিলিটারি ও বুয়েট- যৌথভাবে এই প্রজেক্টের সাথে জড়িত। দূর্নীতি হলে সিইসি হয়ে বুয়েটের দিকে আসতে হবে। তাই সুষ্ঠ পরিবেশে নির্বাচন হলে আমরা হয়ত একটা আধুনিক পদ্ধতিতে সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে পারবো।
ফাতেমা মাহফুজ:: অল টাইম নিউজ::