বিদেশী চলচ্চিত্রের আগমনের পরেও বালিতে মুখ গুঁজে আর কতদিন?
ডিভিডিতে কিংবা এম কেভি ফরমেটে ডাউনলোড করে হিন্দি মুভি দেখেননা এমন মানুষ খুব কমই আছে। অনেকদিন থেকেই সবার পেনড্রাইভে কিছু না কিছু ইন্ডিয়ান মুভি দেখে আসছি। আর মানুষ এসব বহন করবেই বা না কেনো? তারা তো তার চেয়ে উন্নত কিছু নিজের দেশের কাছে পাচ্ছেনা, যখন নিজের দেশ তাকে উন্নত অর্থনীতি না দেবে তখন নির্ঘাত মানব মন অন্য কারো উন্নত অর্থনীতি দেখলে সেদিকে ধাবিত হবে কিংবা আকর্ষিত হবে, যখন নিজের দেশ কাউকে উন্নত শিক্ষা দিতে না পারবে অবশ্যই সে অন্য কোন দেশের শিক্ষার গুণই কেবল গাইবেনা বরং সেই দেশে গিয়ে শিক্ষিত হবার চেষ্টা করবে। যখন নিজের দেশ তাকে মান সম্পন্ন বিনোদন দিতে না পারবে তখন অন্যদেশীয় সংস্কৃতিক বিনোদন সামগ্রীর উপর সে নির্ভরশীল হবেই, এটাতো পাগলেও বুঝে। তাহলে আমরা কেন বুঝিনা?

 

কারণ আমরা যে কোন কিছু ঘটলে প্রথম কিছুদিন লাফাই, তার পর ধিরে ধিরে ভুলে যাই। এই যে আজকে এতো চেঁচামেচি আমাদের, বলা যায় মরণ আর্তনাদ, কিন্তু ঠিকই বছরখানেক পরে পালে হাওয়া লাগিয়ে অনেকে হলে গিয়ে সিনেমা দেখে আসবো। এটাই স্বাভাবিক, কেননা আমরা অন্যায়ের সাথে এডজাষ্ট করে ফেলি কিছুদিনের মধ্যেই।

 

আমার তো মনে হয় এতোদিন আমরা চুরি করে তাদের মুভি দেখেই বরং অন্যায় কাজ করেছি, এখন দেশ যাবে বলে মাথা উঁচিয়ে ন্যয় কাজে বাঁধা দিতে চাইছি। মধ্যপ্রাচ্যে ভারতীয় চলচ্চিত্রের বিশাল বাজার। কেবল এশিয়ার এই অঞ্চলই নয় বরং নিজ গুণে ( আমি এটাকে গুণ বলেই স্বীকার করি, কেননা সিনেমাগুলো মেক্সিমামই মান সম্পন্ন) এবং আগ্রাসনের মাধ্যমে যায়গা দখল করে নিয়েছে। তারা এদেশের চলচ্চিত্রের যে খরা চলছে সেই সুযোগটাকেই কাজে লাগাবে।

 

আমাদের চলচ্চিত্রকে টিকিয়ে রাখতে হলে এতোদিনের নানামুখি প্রতিযোগীতার সাথে এখন যুক্ত হলো বিশ্বমানের ভারতিয় চলচ্চিত্রের চাহিদাকে উপেক্ষা করে সেই অনুযায়ী দেশী শিল্পের যোগান দেয়ার প্রতিযোগীতা। কিন্তু এটাতে টিকে থাকতে হলে প্রতিক্রিয়াশীলদেরই মাঠে নামতে হবে। বড় বড় কথা না বলে ঢাল তলোয়ার নিয়ে নামুন। সংস্কৃতি গেল গেল বলে ধরে রাখা যাবেনা। বরং যে চ্যলেঞ্জ সামনে আসলো তাকে হাতের মুঠোয় নিয়ে দুমড়ে মুচড়ে দেখিয়ে দিন ভারতীয় সিনেমা আসলে কি হবে? দেশের মানুষ এখনো দেশের সিনেমাই দেখতে চায়।

 

এজন্য প্রয়োজনঃ

 

   ১, ভালো মানের নির্মাতা
   ২, তাদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়ার মত একটি গোষ্ঠী
   ৩, ডিজিটাল ফিল্ম নির্মাণের প্রাচুর্যতা
    ৪,সুন্দর কাহিনী
    ৫,এ অঞ্চলের মাটি ও মানুষের সাথে সম্পৃক্ততা
    ৬,ইতিহাস ঐতিহ্যকে নানান ঘটনাবলি দিয়ে সম্পৃক্ত করে তরুণদেরকে তাদের শরীরে বহমান রক্তের সাথে পরচিত করিয়ে দেয়া।

 

মনে রাখবেন, আমরা চিৎকার করতে পারি প্রচুর(কেবল রাজপথ আর ব্লগ ফেসবুকে) কিন্তু সেই অনুযায়ী কাজ করিনা। ক্ষতি যা হবার হয়েই যাচ্ছে, তাহলে দেশ, দেশের সংস্কৃতি আর নীতি নৈতিকতা রক্ষা করার জন্য এতো মরিয়া হয়ে লাভ কি? এসব ব্লগিয়ান আর ফেসবুকিয়ান আন্দোলনে ভারতিয় মুভির আগমন ঠেকানো যাবেনা। বরং ভালো কিছু নির্মাণই পারে এর বিরুদ্ধে যোগ্য আন্দোলন গড়ে তুলতে।

 

ভালোই হলো-- খেলার মাঠে বিশ্বমানের খেলোয়ারের সাথে লড়াই হবে (যদি ঘটে কিছু বুদ্ধি থাকে তাহলে এই লাইনটা উপলব্ধিযোগ্য)।