সরকারী উদ্যোগ ত্বরান্বিত হলে স্বল্প সময়ে নির্মিত হবে স্থলবন্দর

কুষ্টিয়া -  কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুরে হতে যাচ্ছে দেশের অন্যতম বৃহত্তম স্থলবন্দর। এখানে স্থল বন্দর হলে দেশের রাজস্ব খাতে যোগ হবে বছরে অন্ততপক্ষে কয়েকশ’ কোটি টাকা। এর ফলে একদিকে যেমন দেশ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী হবে, তেমনি কুষ্টিয়া পরিণত হবে দেশের মধ্যে সবচেয়ে উন্নত জেলায়। আর এসব দিক বিবেচনায় এনে স্থলবন্দর নির্মাণে উদ্যোগও গ্রহণ করতে যাচ্ছে সরকার। সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রনালয় থেকে একটি টিম সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে সরেজমিন পরিদর্শনও করেছে। তাদের রিপোর্টও ইতিবাচক। স্থল বন্দরের পরিচালক ইয়াহিয়া চৌধুরীর  প্রতিনিধি হিসেবে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মফিদুল ইসলামের নেতৃত্বে আসা ওই টিম তাৎক্ষনিকভাবে জানিয়েছিলেন দৌলতপুরে স্থল বন্দর অবশ্যই হতে পারে।

 মাথাভাঙ্গা নদীতে দেড়শ ফিট’র একটি ব্রীজ নির্মাণ করা হলেই ভারতের সাথে যোগাযোগ সৃষ্টি হবে। তাছাড়া বেনাপোল স্থল বন্দর নির্মাণ করতে যেয়ে সেখানে যে পরিমান অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল সে তুলনায় এখানে সামান্য পরিমান অর্থ ব্যয় করলেই হয়ে যাবে দেশের অন্যতম বৃহৎ স্থলবন্দর। তবে এজন্য অনেক সময়ের প্রয়োজন। আমরা স্থলবন্দর নির্মাণের ব্যাপারে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে ইতিবাচক রিপোর্ট দিয়েছি। মন্ত্রী ও সচিব পর্যায়ে বৈঠকে বিষয়টি তোলা হবে। পরবর্তীতে অর্থ, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে  বিষয়টি তোলা হবে। তবে আশা করা যেতে পারে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে স্থলবন্দর নির্মাণে সব রকম পরিবেশ রয়েছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, হঠাৎ করে সরকার কেনই বা দৌলতপুরের প্রাগপুরে স্থলবন্দর নির্মাণে তোড়জোড় শুরু করল? উত্তর অনেকেরই জানা নেই। কিন্তু জেনে রাখা প্রয়োজন। সম্প্রতি কুষ্টিয়া সার্কিট হাউসে নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান জেলার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জেলা ও পুলিশ প্রশাসন এবং পরিবহন সেক্টরের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময়কালে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক বনমালী ভৌমিক স্বপ্রনোদিত হয়ে কুষ্টিয়ার প্রাগপুরে স্থলবন্দর নির্মাণের দাবী জানান। ওই মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসকের দাবীর প্রতি সম্মান জানিয়ে মন্ত্রী দৌলতপুরে স্থলবন্দর নির্মাণে উদ্যোগী হন এবং সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে মন্ত্রনালয়ের একটি টিম একমাসের মধ্যে সরেজমিন পাঠানোর প্রতিশ্রুতিও দেন।

 প্রতিশ্রুতির ১মাসের মধ্যে গত ২৪অক্টোবর উপ-সচিব মফিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টিম সরেজমিন পরিদর্শণে আসেন। কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক বনমালী ভৌমিক জানান কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে স্থল বন্দর নির্মাণে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। সম্প্রতি কুষ্টিয়া সার্কিট হাউস হলরুমে নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান স্থলবন্দর নির্মাণে প্রতিশ্রুতি দেয়ার পর থেকে কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। তবে বেশ সময়ের প্রয়োজন। সরকারের মেয়াদেই দৌলতপুরে স্থল বন্দর নির্মাণে কার্যকর পদক্ষেপ দেয়া হবে।জেলা প্রশাসক বনমালী ভৌমিক আরো বলেন দৌলতপুরের প্রাগপুর মিস্ত্রীপাড়ার মাথাভাঙ্গা নদীতে দেড়শ ফিট লম্বাকৃতির একটি ব্রীজ করলেই ভারতের সাথে যোগাযোগ সহজতর হবে।

 স্থলবন্দর নির্মাণে প্রচুর পরিমান জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হলেও দৌলতপুর স্থলবন্দরের ক্ষেত্রে জমির প্রয়োজন হচ্ছেনা। কারণ এখানে প্রচুর পরিমান জমি পরিত্যক্ত রয়েছে। দেশের অন্যান্য স্থলবন্দর নির্মাণে যে পরিমান অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল কুষ্টিয়ার দৌলতপুর স্থলবন্দর নির্মাণে সে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হবেনা। তিনি আরো জানান এখানে স্থলবন্দর নির্মাণের ব্যাপারে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী মাহবুব-উল আলম হানিফ সার্বিক সহযোগীতা করে যাচ্ছেন। আর এ কারণেই তিনি আরো বেশি আশাবাদী হয়েছেন। কুষ্টিয়া-১(দৌলতপুর) আসনের সাংসদ আফাজ উদ্দিন আহমেদ জানান দৌলতপুরে স্থল বন্দর নির্মাণের ব্যাপারে সংসদে বেশ কয়েকবার উপস্থাপন করা হয়েছে।

বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সাথে দেখছে। আশা করি বর্তমান সরকারের মেয়াদেই দৌলতপুর স্থলবন্দর নির্মাণ সম্পন্ন হবে। দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন বর্তমান ডিসি স্যার কুষ্টিয়ায় স্থলবন্দর নির্মাণের ব্যাপারে যথেষ্ট আন্তরিক। এজন্য তিনি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রেখেছেন। দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে স্থলবন্দর নির্মাণে জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই করতে একটি টিম দৌলতপুরের প্রাগপুরে ঘুরে গেছেন। আমি ওই টিমকে স্থলবন্দর নির্মাণের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়েছি। উনারা আমার তথ্য ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তবে অভিজ্ঞমহল মনে করেন দৌলতপুরে স্থলবন্দর নির্মাণ হলে কুষ্টিয়া হবে দেশের অন্যতম সমৃদ্ধশালী জেলা। আর এ থেকে দেশের রাজস্বখাতে বছরে জমা পড়বে শত শত কোটি টাকা।

মুস্তাফিজুর রহমান পলাশ