
আঁৎকে উঠলেন? এতো কাল কেউ জন্ম নিয়ে কথা বলল না আজ হঠাত করে এসব কি শুনছি? এসব আবার জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ির বিজ্ঞাপন নাতো!! নাকি আবার ওদের পেমেন্ট পেয়ে এইসব লেখার জন্ম? দুনিয়ার মোটামুটি সকল ধর্মই বাচ্চাকাচ্চা নেয়ার বিষয়ে বেশ হাততালি দিয়েছে, এবং অনেকে তো ইসলামকে দলীল দেখিয়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে মাশাল্লাহ একটি সিদ্ধান্তেও পৌঁছে যাচ্ছে। কিন্তু খুন করার মত একটি বিষয়ের সাথে তুলনা?? নালায়েক এই ছেলেটা কি বলতে চায়??
তাহলে চলুন ঘটনার গভীরে ডুব দেই। মানুষ কি? মানুষ আসলে এই ধরাধামে সবচেয়ে বুদ্ধিমান জীব, অবিশ্বাসীরা বলে থাকে বিবর্তনের ধারায় পরিবর্তিত ভাগ্যবান একমাত্র জীব। ভাগ্য?? এই ভাগ্যকে বান আবার কে মেরেছে? ভাগ্য নিয়ে আলোচনা করতে গেলেও বহু পানি গড়িয়ে যাবে তিস্তার জরাজীর্ণ বুকে তবুও আত্মার মতই এটাকেও কোনদিন কোন যন্ত্র দিয়ে ডিফাইন করা সম্ভব হবেনা। আবার অন্যদিকে বিশ্বাসীরা মনে করে মানুষ আল্লাহর সৃষ্ট শ্রেষ্ঠ জীব। আশরাফুল মখলুকাত।
এই মখলুকাত বংশপরম্পরায় পৃথিবীকে গতিশীল করে রেখেছে এক ভয়াবহ চক্রান্তে পা দিয়ে। নয়তো কবেই মানব জীবন ধারা বন্ধ হয়ে যেতো। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’লা মানুষের মধ্যে মানব মানবীর এক দূর্বার আকর্ষণ দিয়েই আমাদেরকে সেই ষড়যন্ত্রের মহান হাতিয়ার বানিয়ে রেখেছেন। যদিও দুনিয়ার ষড়যন্ত্রকারীরা এই সিষ্টেমকে ভেঙ্গে দিয়ে একজাতীয়দের সম্পর্ককে অনুমোদন দিয়ে প্রাচীন সিষ্টেমে প্রলয়ংকরী একটি ইতি টানতে চাইছে তবুও তাদের সফলতার সম্ভাবনা ক্ষীণ। ষড়যন্ত্র শব্দের শাব্দিক ব্যবহারে কেউ আবার ক্ষেপে যাবেননা যেন। আমাদের জন্য যেসব শব্দ অসম্মান সেগুলো আল্লাহকে নাগাল পাওয়ার কথা নয়। কেননা আমরা সৃষ্টি আর তিনি স্রষ্টা। তাছাড়া এই শব্দ তিনি নিজেও তাঁর নিজের প্ল্যান প্রোগ্রামের ব্যপারে কুরআনে ব্যবহার করেছেন।
সৃষ্টির এই স্বাভাবিক ধারাকে বহমান রাখতে প্রতিটি জীবনের মধ্যেই নারী পুরুষের আকর্ষণ বেঁধে দিয়েছেন। কিন্তু তাই বলে আমরা তাকে দোষারোপ কিংবা দায়ী যেমন করতে পারিনা তেমনি, সৃষ্টির এই ধারা বহমানে প্রজনন ক্ষমতা দিয়ে দেয়ার পর সেই ক্ষমতাকে ইচ্ছেমত ব্যবহার করে মানব জীবনে সমস্যা সৃষ্টি করার দায়ভার কিংবা রিজিকের দায়ভারও আমরা তাঁর উপর চাপিয়ে দিতে পারিনা।
বাবা এবং মায়ের পূর্ণ দায়িত্ব সন্তানকে একজন সৎ মানুষ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। এই দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে কিংবা উদাসীন হলে সেই প্রভাব সন্তানের উপর পড়ায় সন্তান যেসব পাপ করবে তাঁর ভাগীদার এই বাবা মা’ই হবে। তাহলে সন্তান জন্ম দেয়া পাপ।
একজন ব্যবসায়ী যদি তাঁর ব্যবসায়ের স্বল্প আয়ের কথা হিসেব করেও অবিবেচকের মত কর্মচারী নিয়োগ করে সারা মাস খাটিয়ে তাকে বেতন দিতে অক্ষমতা প্রকাশ করে আর রাগে ঐ কর্মচারী যদি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাংচুর করে তাহলে ব্যবসায়ীর আচরণ কি অবিবেচক জালিমের মত হবেনা? সুতরাং নিজের নৈতিক ও সামাজিক অবস্থানের কথা বিবেচনা না করে যখন কেউ আরেকটি মানুষকে দুনিয়ায় এনে বেকায়দায় ফেলে দেয় তাহলে এই পাপের ভার আগত মানুষটি কেন বহন করবে? এটা নির্ঘাত তাঁর আমন্ত্রণকারী বাবা ও মা’ই বহন করবে। তাহলেও সন্তান জন্মদেয়া পাপ।
অবশ্যই আমি সন্তান গ্রহণে নিরুৎসাহিত করছিনা বরং উৎসাহিত করছি যেন সন্তানেরা বাবা মায়ের তত্বাবধায়নে এক একটি সোনালী মানুষে রূপ নেয়। আর এজন্য যদি- বাবা মা অর্থাৎ সমাজের নরনারীরা কেবল এটাই ভেবে থাকে যে নিজেরা শুদ্ধ হলেই তাদের সন্তান ফুলের মত হবে, তাহলে বলতে হবে মস্তিষ্কের গলিতে আকল রস হালকা কম আছে। তাঁর প্রজন্মকে সেইভ করতে হলে সন্তান যে ছেলেটির সাথে মিশবে তাকেও গাইড করতে হবে, সন্তান যে শিক্ষকের সাথে মিশবে তাকে পাহারা দিতে হবে, যে গাড়িতে করে বাড়ি ফিরবে তাঁর চালক দক্ষ কিনা সেদিকে নজর দিতে হবে, এবং তাঁর সামনে খোলা যাদুর বাক্স (টিভি ও কম্পিউটার) নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
লাল বৃত্ত
| Tweet |