ঝগড়া হলে ভালোবাসা বাড়ে

 

জীবন- ঝগড়া হলে ভালোবাসা বাড়ে’—কথাটি শুনে উড়িয়ে দেওয়ার আগে এখন আপনাকে আরেকবার ভেবে নিতে হবে। ভারতের বিবাহসংক্রান্ত একটি জনপ্রিয় ওয়েবসাইট শাদি ডট কম এবং বাজার গবেষণা সংস্থা আইএমআরবির যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত জরিপ আপনাকে ভুল প্রমাণিত করতে পারে। ওই জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, শতকরা ৪৪ শতাংশ ভারতীয় দম্পতি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন, সপ্তাহে একাধিকবার ঝগড়া করা দীর্ঘ ও সুখী বৈবাহিক জীবনের অন্যতম চাবিকাঠি। এতে স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক বোঝাপড়ারও নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়।

 

বৈবাহিক সম্পর্কের ভিত্তি মজবুত করার জন্য ঝগড়া করা একান্ত প্রয়োজন। কারণ এটি স্বামী-স্ত্রীকে কাছাকাছি নিয়ে আসে। কখনো কখনো তাদের মধ্যকার ভুল বোঝাবুঝিও দূর হয়।’ জানালেন আনন্দ শেঠ। তিনি বর্তমানে একজন ব্যবসায়িক উন্নয়ন ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত।

 

একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে মার্কেটিং ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত সুশীলা বসু বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার বাক-বিতণ্ডার মধ্য দিয়ে দুজনের চিন্তার পার্থক্যগুলো বেরিয়ে আসে। ফলে কোনো বিষয়ে দম্পতিদের মনে তিক্ততা তৈরি হলেও তা খুব বড় আকারে দানা বাঁধতে পারে না। অন্যদিকে জরিপে অংশগ্রহণকারী ৩২ থেকে ৩৩ শতাংশ দম্পতি সুখী বৈবাহিক জীবনের জন্য মাসে একবার ঝগড়া করা জরুরি বলে মনে করেন।

 

মজার ব্যাপার হলো, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে দম্পতিদের মধ্যে কলহের মাত্রা অনেকটাই কমে আসে। জরিপে দেখা যায়, ২০-২৫ বছর বয়সী ১০ শতাংশ দম্পতির তুলনায় ৪১-৪৫ বছর বয়সী মাত্র ২ শতাংশ দম্পতি মাসে একবার ঝগড়া করেন। কারণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের বৈবাহিক জীবনের বয়সও বাড়তে থাকে। জীবনের একটা বড় সময় পরস্পরের সঙ্গে কাটানোর কারণে তাঁদের মধ্যকার পারস্পরিক বোঝাপড়া কম বয়সী দম্পতিদের তুলনায় অনেক বেশি হয়।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, তুলনামূলকভাবে নারীরা পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশি ঝগড়ায় লিপ্ত হয়। নমুনাভুক্তদের মধ্যে ১২ শতাংশ নারী প্রতিদিন ঝগড়া করেন। যেখানে পুরুষের সংখ্যা ৮ শতাংশ।

 

তবে দম্পতিদের জন্য রাগারাগি বা কলহ কখনোই আদর্শ নয় বলে মনে করেন মনোবিশেষজ্ঞ প্রকৃতি পোদ্দার। ৮০ শতাংশ মানুষ তাদের বৈবাহিক সম্পর্কের সমস্যা নিয়ে তার কাছে আসে। তিনি বলেন, বর্তমানে মানুষ অনেক বেশি আত্মনির্ভরশীল। তাঁরা প্রত্যেকেই তাঁদের সাংসারিক জীবনে সম্মান, যোগাযোগ আর ভালোবাসার কাঙাল। বৈবাহিক জীবনে তাঁরা যখন এগুলোর অভাব বোধ করেন, তখনই তাঁরা বিবাহবিচ্ছেদের দিকে ঝোঁকেন। এসব কারণে গত পাঁচ বছরে বিবাহবিচ্ছেদের হার শতভাগ বেড়েছে বলেও তিনি মনে করেন।দিল্লি হাসপাতালের চিকিত্সক পুনম দার্শালের মতে, অধিকাংশ ঝগড়ার সূত্রপাত ঘটে ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি থেকে।

 

জাহিদ ::অল টাইম নিউজ::