
গাজীপুর- কড়া নিরাপত্তার মধ্যে টঙ্গীতে শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। এতে যোগ দিতে দেশ-বিদেশের লাখো মুসল্লি এরই মধ্যে জড়ো হয়েছেন ইজতেমা ময়দানে।শুক্রবার ফজরের নামাজের পর ইজতেমা ময়দানে বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাবলীগ জামায়াতের এই বিশ্ব সম্মেলন, যাতে অংশ নিচ্ছেন দেশের ৩২ জেলার মুসল্লিরা। রোববার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ইজতেমা শেষ হবে।ইজতেমায় যোগ দিতে বৃহস্পতিবার থেকেই টঙ্গী অভিমুখে মুসুল্লিদের ঢল নামে। শুক্রবারও ট্রেন, বাস, নৌকাসহ বিভিন্ন বাহনে করে হাজার হাজার মুসল্লি ইজতেমা মাঠে পৌঁছান।
এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি প্রথম পর্বের ইজতেমা শেষ হয়। গত বছর থেকে দুই দফায় বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
দ্বিতীয় পর্বে যেসব জেলা
ইজতেমার আয়োজক কমিটির মুরুব্বী মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, দ্বিতীয় পর্বে মুসল্লিদের থাকার জন্য ময়দানকে ৩৮টি খিত্তায় ভাগ করা হয়েছে।
এরমধ্যে ১ ও ২ নম্বর খিত্তায়- নারায়ণগঞ্জ, ৩ ও ৪ নম্বরে- ঢাকা (বাকি অংশ), ৫ নম্বরে- কক্সবাজার, ৬ নম্বরে- মানিকগঞ্জ, ৭ নম্বরে- জামালপুর, ৮ নম্বরে- পটুয়াখালী, ৯ নম্বরে- পিরোজপুর, ১০ নম্বরে- টাঙ্গাইল, ১১ নম্বরে- নেত্রকোনা, ১২ নম্বরে- বরিশাল, ১৩ নম্বরে- ঝিনাইদহ, ১৪ নম্বরে- মেহেরপুর, ১৫ নম্বরে- ময়মনসিংহ-১, ১৬ নম্বরে ময়মনসিংহ-২, ১৭ নম্বরে ময়মনসিংহ-৩, ১৮ নম্বরে- কুমিল্লা, ১৯ নম্বরে- লক্ষ্মীপুর, ২০ নম্বরে- ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ২১ নম্বরে- কুড়িগ্রাম, ২২ নম্বরে- নোয়াখালী, ২৩ নম্বরে- নীলফামারী, ২৪ নম্বরে- ঠাকুরগাঁও ২৫ নম্বরে- পঞ্চগড়, ২৬ নম্বরে- চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ২৭ নম্বরে- বগুড়া, ২৮ নম্বরে- পাবনা, ২৯ নম্বরে- নওগাঁ, ৩০ নম্বরে- মুন্সীগঞ্জ-১, ৩১ নম্বরে-মুন্সীগঞ্জ-২, ৩২ নম্বরে-মাদারীপুর, ৩৩ নম্বরে- গোপালগঞ্জ, ৩৪ নম্বরে- সাতক্ষীরা, ৩৫ নম্বরে- মাগুরা, ৩৬ নম্বরে- খুলনা, ৩৭ নম্বরে- সুনামগঞ্জ ও ৩৮ নম্বর খিত্তা- মৌলভীবাজারের মুসুল্লিদের থাকার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা
প্রথম পর্বের মতোই ইজতেমার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠের চারদিকে পুলিশ, র্যাব, আনসারসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। পুরো টঙ্গী এলাকা ঢেকে দেওয়া হয়েছে নিরাপত্তা জালে।
র্যাব-১ এর উপ-পরিচালক মেজর মো. নিশাদুল ইসলাম খাঁন বৃহস্পতিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ৫ সেক্টরে ভাগ করে র্যাব সদস্যরা পুরো ইজতেমা এলাকা ও আশপাশে নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব পালন করছেন। ইজতেমার মূল তিন দিন র্যাবের হেলিকপ্টার টহল দেবে। এছাড়া প্রতি খিত্তায় সাদা পোশাকে র্যাব সদস্যরা অবস্থান করছেন।
তুরাগ নদীতে নৌ-টহল দল ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। মাঠে প্রবেশ পথে দেহ তল্লাশি, মাঠের বিভিন্ন পয়েন্টে টাওয়ার থেকে র্যাব পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়াও মাঠের ভেতরে খিত্তায় সাদা পোশাকে বিশেষ টুপি পড়ে মুসল্লীদের সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীরা অবস্থান করছে। র্যাবের বোমা নিস্ক্রিয়করণ দলও মাঠে কাজ করছে।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার আব্দুল বাতেন জানান, ইজতেমা মাঠের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য র্যাব পুলিশসহ ১০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী কাজ করছে। পুলিশ ও র্যাবের বেশ কিছু সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা
ইজতেমা উপলক্ষে মুসল্লিদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ২০ থেকে ২২ জানুয়ারি গাড়ি চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রোববার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ধউড় সেতু থেকে আব্দুল্লাহপুর হয়ে প্রগতি সরণী এবং টঙ্গী সেতু থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত বিমানযাত্রী, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া সব যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।
ঘোড়াশাল থেকে পুবাইল-কালীগঞ্জ হয়ে আসা যানবাহন টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশনের পূর্বে মরকুন (কে-২) পর্যন্ত চলাচল করতে পারবে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক থেকে ঘোড়াশাল হয়ে ঢাকাগামী যানবাহন কাচপুর/যাত্রাবাড়ি সড়ক ব্যবহার করবে।
ইজতেমাগামী মুসল্লি, উত্তরাবাসী, বিমানযাত্রী, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া অন্য সব যানবাহনের চালকদের বিমান বন্দর সড়কের পরিবর্তে মিরপুর-সাভার সড়ক ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।
ঢাকা মহানগরের যে সব মুসল্লি পায়ে হেঁটে ইজতেমায় যাবেন তাদের শাহজালাল বিমানবন্দর গোলচত্বর আজমপুর-আব্দুল্লাহপুর হয়ে টঙ্গী সেতু দিয়ে না গিয়ে তুরাগ নদীর ওপর নির্মিত ভাসমান সেতু অথবা কামারপাড়া সেতু ব্যবহার করতে হবে।
বিভিন্ন এলাকার যানবাহনের জন্য পৃথক পার্কিং এলাকা নির্দিষ্ট করা হয়েছে।
বিশুদ্ধ খাবার ও ভ্রাম্যমাণ আদালত
খাবারের দোকানে খাবারের মান ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ১২টি ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুরের নির্বাহী হাকিম আসমা আরা। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করবে।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ইজতেমা এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বিশুদ্ধ খাদ্য আইনে ৩টি ও দণ্ডবিধিতে ২টিসহ মোট ৫টি মামলা এবং ১৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছেন বলে জানিয়েছেন জেলা কন্ট্রোল রুমর কর্মকর্তা গাজীপুর জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুন্নাহার।
গাজীপুরের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোস্তফা জানান, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য এবার আরো একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও ইজতেমা এলাকায় ইতোপূর্বে একই ধরনের আরো ১১টি উৎপাদন নলকূপ সচল রয়েছে। ১২টি নলকূপ থেকে প্রতিদিন ৬৭ লাখ ২০ হাজার গ্যালন পানি সরবরাহ করা যাবে। পুরো ইজতেমা এলাকায় ১১ কিলোমিটার সরবরাহ লাইনের মাধ্যমে ওই পানি ওজু-গোসলের হাউজসহ প্রয়োজনী স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যসেবা
গাজীপুরের সিভিল সার্জন সৈয়দ মো. হাবিব উল্যাহ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট টঙ্গী হাসপাতালে তাদের একটি নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ছাড়াও টঙ্গী হাসপাতালে কার্ডিয়াক, বার্ণ, অ্যাজমা, ট্রমাসহ বিভিন্ন ইউনিট খোলাসহ হাসপাতালে শয্যার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
ইজতেমা এলাকায় সরকারি ও বেসরকারিভাবে প্রায় ৫০টির ফ্রি মেডিক্যাল সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে। মন্নু নগর এলাকায় ইতোমধ্যে বেশ কিছু ফ্রি-মেডিক্যাল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।
সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ
ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) ব্যবস্থাপক (টঙ্গী-পশ্চিম) মোস্তাফিজুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ইজতেমা এলাকায় সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতি রয়েছে। উত্তরা, টঙ্গী সুপার গ্রিড ও টঙ্গী নিউ গ্রিডকে মূল ১৩২ কেভি সোর্স হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে, যেন কোন একটি গ্রিড বিকল হলেও সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘিœত না হয়।
অনুসন্ধান ও প্রয়োজনীয় তথ্য
প্রয়োজনীয় টেলিফোন নম্বরগুলো হচ্ছে, জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম- ৯৮১৩৪০১-২, পুলিশ কন্ট্রোল রুম-৯৮১৩৪০৩, পুলিশ সাব-কন্ট্রোল রুম-১- ৯৮১৩৪০৪, পুলিশ সাব-কন্ট্রোল রুম-২- ৯৮১৩৪০৫, র্যাব কন্ট্রোল রুম- ৯৮১৫১১১, র্যাব সাব-কন্ট্রোল রুম-১-৯৮১৫১১২, র্যাব সাব-কন্ট্রোল রুম -২-৯৮১৫১১৩, র্যাব সাব-কন্ট্রোল রুম -৩-৯৮১৫১১৩, স্বাস্থ্য বিভাগ কন্ট্রোল রুম - ৯৮১৭৫১৪-৯৮১৭৫১৫ ও ৯৮১৭৫১৬, টঙ্গী পৌরসভা কন্ট্রোল রুম - ৯৮১৩৪০৭, ইজতেমা কর্তৃপক্ষের তথ্যকেন্দ্র- ৯৮১৬৩৭০-৭১, ৯৮১৬৩৭২ ও ৯৮১৬৩৭৩, বিদ্যুৎ বিভাগ- ৯৮১৬৩৭৯, ফায়ার সার্ভিস- ৯৮১৬৩৬৮।
জাহিদ:: অল টাইম নিউজ::
কৃবহমি
| Tweet |