
ঢাকা - দশম সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ছবিসহ ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম করছে নির্বাচন কমিশন। কর্মকর্তারা বলছেন, সারাদেশে চার ধাপে এই হালনাগাদ কার্যক্রম শেষে ভোটার সংখ্যা ৮০ থেকে ৯০ লাখ বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে ষোল কোটি মানুষের এই দেশে ভোটার সংখ্যা দাঁড়াবে নয় কোটিরও বেশি।
২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনের আগে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়নের পর সর্বশেষ ২০০৯ সালে তা হালনাগাদ করা হয়। সে অনুযায়ী, বর্তমানে সাড়ে আট কোটি ভোটার তালিকাভুক্ত রয়েছে। আইন অনুযায়ী ২০১৪ সালের ২৪ জানুয়ারির মধ্যে দশম জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা।
বৃহস্পতিবার হালনাগাদ কার্যক্রম নিয়ে ইসি এবং ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান প্রকল্পের (পিইআরপি) বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ১৮ ও তার বেশি বয়সী নতুন ভোটার এবং আগে বাদ পড়াদের অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি স্থানান্তর, সংশোধন ও মৃতদের বাদ দিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হবে।
ওই বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “হালনাগাদ কার্যক্রম ইসির সুবিধাজনক সময়ে করার বিধান রেখে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় মার্চের মাঝামাঝি সময়ে হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু হবে।”
বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, প্রতিবছরের ২ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কথা থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কারণে গত দুই বছর তা সম্ভব হয়নি।
এবারের হালনাগাদ কার্যক্রম সফল করতে ইতোমধ্যে দেশের চারটি এলাকায় (নওগাঁর পতœীতলা, গাজীপুরের কালিগঞ্জ পৌরসভা, ঢাকার গুলশানের ১৮ নম্বর ওয়ার্ড এবং কক্সবাজারে ঝিলনজা ইউনিয়ন) পরীক্ষামূলক প্রকল্প শেষ করেছে ইসি।
ভোটার তালিকা প্রণয়ন প্রকল্পের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আখতারুজ্জামান সিদ্দিক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা নিয়েই দেশব্যাপী হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু করা হবে।”
ইসির কর্ম পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩৭০ দিনের হালনাগাদ কর্মসূচিতে তথ্য সংগ্রহ হবে চার ধাপে। প্রথম দফায় ১০০ দিন, পরবর্তী তিন দফায় ৯০ দিন করে কাজ চলবে। ৬৪টি জেলায় একইসঙ্গে কাজ শুরু হয়ে উপজেলাগুলোকে চার ভাগ করে বিভিন্ন ধাপে হালনাগাদ করা হবে। সিটি কর্পোরেশন এলাকাগুলোতে এ কার্যক্রম চলবে চতুর্থ বা শেষ ধাপে।
তথ্য সংগ্রহ, ছবিতোলা ও আঙ্গুলের ছাপ নেওয়া, তথ্য যাচাই-বাছাই এবং খসড়া তালিকা তৈরির পর তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।
বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাসহ অন্য দেশের নাগরিকদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ বন্ধে এবার বিশেষ পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। ভোটারের বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী বা পিতামহের আইডি নম্বরও নেওয়া হবে এবার।
পুরো হালনাগাদ কাজ শেষ হতে এ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে বলে মনে করেন আক্তারুজ্জামান। আর সেক্ষেত্রে দশম সংসদ নির্বাচনের আগে আর তালিকা হালনাগাদ করার সুযোগ পাবে না নির্বাচন কমিশন।
প্রকল্প পরিচালকের ধারণা, এবার হালনাগাদে ভোটার সংখ্যা প্রায় ১০ শতাংশ বাড়তে পারে।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, বিগত ফখরুদ্দীন আহমদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ২০০৭ সালে গাজীপুরের শ্রীপুরে পাইলট প্রকল্প দিয়ে ছবিসহ ভোটার তালিকা কার্যক্রম শুরু হয়। ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে ভোটার তালিকায় নাম ছিল আট কোটি দশ লাখ ৫৮ হাজার ৬৯৮ জনের। ২০০৯ সালের হালনাগাদে তা ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে হয় আট কোটি ৫৭ লাখ ৭৪৭ জন।
২০১০ সালে ব্যক্তিগতভাবে আবেদন করে আরও চার হাজার ৮৫০ জন ভোটার তালিকাভুক্ত হন। কিন্তু ওই সময় পর্যন্ত এক লাখ ৯৪ হাজার ৯২০ জন মারা যাওয়ায় ভোটার তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আখতারুজ্জামান বলেন, “দুই থেকে তিন বছরের (২০১৩ সালে যাদের বয়স ১৮ হবে) তথ্য সংগ্রহ করলে হালনাগাদে ৮৫ লাখ থেকে ৯০ লাখ নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করছি আমরা।”
ইসি কর্মকর্তারা জানান, প্রতি বছর হালনাগাদ কার্যক্রম পরিচালনা করা স্বল্প জনবল দিয়ে সম্ভব নয়। এ কারণে আইন সংশোধন করে ‘প্রতি বছর ২ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে’- এই বাক্যের পরিবর্তে ‘কমিশন যখন সময় নির্ধারণ করবে’- প্রতিস্থাপন করা হবে।
নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন বলেন, “একটি কর্মপরিকল্পনা বর্তমান কমিশন অনুমোদন করে গেল। হালনাগাদ চলমান প্রক্রিয়া। সারাদেশে সার্ভার স্টেশনগুলো চালু হলে সব সময় হালনাগাদ কার্যক্রম চলবে।”
এদিকে দ্বৈত ভোটার চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট তথ্য নষ্ট ও পরিচয়পত্র জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অণুবিভাগ। এ বিষয়ে গত মঙ্গলবার একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
এই অণুবিভাগের পরিচালক মো. মহসীন আলী জানান, বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে (এএফআইএস ম্যাচিং) ছবি, আঙ্গুলের ছাপ ও তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে। ছবি ও ছাপ মিলে গেলে, কিন্তু তথ্য দুই রকম হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
| Tweet |