
ঢাকা-আয়োডিন ছাড়া লবণ বিক্রি নিষিদ্ধ হলেও মানুষ যেসব লবণ খায় তার বেশিরভাগের মধ্যে ‘যথাযথ পরিমাণে’ আয়োডিন থাকে না। বুধবার রাজধানীতে এক কর্মশালায় আইসিডিডিআর’বির সেন্টার ফর নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সিকিউরিটির পরিচালক ডা. তাহমিদ আহমেদ বলেন, “বাজারে আয়োডিন সমৃদ্ধ লবন সুলভ না হওয়ার পিছনে কারখানা মালিকদের অনাগ্রহ ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর নজরদারির অভাবই প্রধান কারণ।তিনি বলেন মানুষ আয়োডিন সমৃদ্ধ লবণ না খাওয়ার পিছনে সচেতনতার অভাবের পাশাপাশি কম দামে আয়োডনহীন লবণ পাওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।
মাত্র ৫০ শতাংশ কারখানা মালিক তাদের লবণে সঠিক মাত্রায় আয়োডিন মেশায়, বলেন তিনি। অবশ্য ৮০ শতাংশ মানুষই কম বা পরিমাণ মতো আয়োডিন সমৃদ্ধ লবণ খায় বলে উল্লেখ করেন এই বিশেষজ্ঞ। লবণের আয়োডিনের যথাযথ মাত্রা হওয়া উচিত ১৫পিপিএম। বিশেষজ্ঞরা বলেন, আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড রোগ হয় যাতে থাইরয়েড গ্রন্থি বড় হয়ে গলা ফুলে যায়। এতে বিকলাঙ্গতাও দেখা দিতে পারে। আয়োডিনের অভাবে গর্ভবতীদের গর্ভস্রাবেরও ঝুঁকি থাকে।
১৯৮৯ সালে আয়োডিন স্বল্পতার রোগ নিবারণ আইন পাস করার এবং ১৯৯৩ সালে এক সমীক্ষায় বাংলাদেশে ৪৭ দশমিক এক শতাংশ মানুষের গলগণ্ড রোগ থাকার কথা ধরা পড়ার পর ১৯৯৪ সালে আয়োডিনহীন লবন বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞাআরোপ করে সরকার। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিএসসিআইসি) সহায়তায় সরকার কারখানা মালিকদের মধ্যে লবনে আয়োডিন মেশানোর সরঞ্জাম সরবরাহ করে। এছাড়া আয়োডিন সমৃদ্ধ লবন প্রস্তুতে প্রয়োজনীয় এজেন্ট পটাসিয়াম আয়োডাইডও ভর্তুকি দিয়ে কম মূল্যে সরবরাহ করে বিএসসিআইসি।
ল্যানসেট জার্নালের বরাত দিয়ে ডা. তাহমিদ আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের মতো দেশগুলিতে অপুষ্টির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য বিশ্বজনীন লবন আয়োডিন সমৃদ্ধকরণ একটি পদক্ষেপ হওয়ায় বিষয়টিকে আমাদের অনেক গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত। জ্যেষ্ঠ সচিব মো. হুমায়ুন কবির বলেন, সবাই যাতে প্রয়োজনীয় মাত্রায় আয়োডিন পায় সেজন্য সারা দেশের জন্য লবণে আয়োডিনের একটি নির্দিষ্ট মাত্রা ঠিক করে দিতে হবে। এ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়–য়া বিশ্বব্যাপী আয়োডিন সমৃদ্ধ লবণ নিশ্চিতের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য একটি ‘সুনির্দিষ্ট’ রূপরেখা প্রণয়নের আহ্বান জানান।
| Tweet |