“”

“”

ভয়ঙ্কর পথে হাঁটছে সরকার-দেলোয়ার

লিখেছেন শাবুজ on এপ্রি 29th, 2010 and filed under রাজনীতি. You can follow any responses to this entry through the RSS 2.0. You can leave a response or trackback to this entry

ডেস্ক : বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন বলেছেন,জনপ্রিয় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ওয়ান বন্ধ, রিমান্ডের নামে বিএনপি নেতাকর্মীদের নির্যাতন এবং বিচারবিভাগে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে ধরেb।   সরকার বাকশাল নয়- তার চেয়েও ভয়ঙ্কর পথে হাঁটছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এক মাঘে শীত যায় না। অপেক্ষা করুন মাঘ মাস আপনাদেরও আসবে। তিনি বলেন, বিরোধী দল যাতে আন্দোলনে যেতে সাহস না পায় সেজন্য রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন এবং জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করা হচ্ছে। গতকাল বুধবার দুপুরে দলের নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, কাজী কামরুল ইসলাম, বিএনপি’র সহ-দফতর আব্দুল লতিফ জনি, আসাদুল করিম শাহীন, শামীমুর রহমান শামীম, ছাত্রদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বিএনপি নেতা জয়ন্ত কুমার কুন্ডুসহ বেশ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।
শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে চ্যানেল ওয়ান বন্ধ করা হয়েছে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার স্বীকার না করলেও রাজনৈতিক কারণেই চ্যানেল ওয়ান বন্ধ করা হয়েছে। এটা এখন সবার কাছে পরিষ্কার। কারণ ওই চ্যানেলের এমডি থেকে শুরু করে বেশিরভাগ কর্মকর্তাই একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ কারণেই তাদের হেনস্থা করা হয়েছে। ভিন্ন মত দলন ও সংবাদ মাধ্যমের কন্ঠরোধের অংশ হিসেবেই সরকার এই চ্যানেলটি বন্ধ করে দিয়েছে। সরকারের এ ধরনের সিদ্ধান্তে আমরা তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি। আশা করছি সরকার অচিরেই তাদের সিদ্ধান্ত বাতিল করে চ্যানেল ওয়ান চালুর অনুমতি দেবে।
রিমান্ডে নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের তীব্র সমালোচনা করে খোন্দকার দেলোয়ার বলেন, বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টুকে ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলার মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে। হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলার সাথে তার দলের লোকরাই জড়িত বলে খবর প্রচার হচ্ছে। নাসিরউদ্দিন পিন্টুকেও মিথ্যা মামলায় জড়াতে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে। এহসানুল হক মিলনের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। আর সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকে এত রিমান্ডে নেয় তারপরও সে কিভাবে বেঁচে আছে তাই বিস্ময়ের ব্যাপার। এভাবে নির্যাতন করার কোন আইনগত ভিত্তি নেই। অথচ সরকার শুধুমাত্র বিরোধী দল যাতে আন্দোলনে যেতে ভয় পায় সেজন্য নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও তাদের সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। পিন্টু ও বাবরের অসুস্থতার কথা তুলে ধরে তিনি তাদের মুক্তি দাবি করেন।
বিরোধী দলের আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দিতে সরকার এ পথ বেছে নিয়েছে উল্লেখ করে দেলোয়ার সরকারের উদ্দেশে বলেন, এক মাঘে শীত যায় না। মাঘ মাস আপনাদের জন্য আসছে, অপেক্ষা করেন। তিনি বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যাওয়ার কোন বিকল্প নেই। সরকারের আচরণে দেশের জনগণ যখন চরম বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠবে তখনই তাদের সঙ্গে নিয়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি আন্দোলনে নামবে।
ভোলা নির্বাচনকে প্রহসন আখ্যায়িত করে খোন্দকার দেলোয়ার বলেন, ভোলায় কোন নির্বাচন হয়নি। আওয়ামী লীগ স্টাইলে সেখানে নির্বাচন হয়েছে। এটা ছিল আগে থেকেই সাজানো নির্বাচন। ভোটের দিন শুধুমাত্র একটি নাটক মঞ্চস্থ করা হয়েছে। বাকশালের আবরণে না গিয়ে কিভাবে বাকশাল কায়েম করা যায় সে চেষ্টাই করছে সরকার। এক প্রশ্নের জবাবে খোন্দকার দেলোয়ার বলেন, নির্বাচন বাতিলে আদালতে গিয়ে লাভ নেই। কারণ নিয়ন্ত্রিত আদালত থেকে সুবিচার আশা করা যায় না।
এদিকে এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আ’লীগ যতবারই ক্ষমতায় এসেছে ততবারই সংবাদ মাধ্যমকে তাদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। স্বাধীনতার পর একদলীয় বাকশাল কায়েম করে সকল সংবাদপত্র বন্ধ করে দিয়ে মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল তারা। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে তারই ধারাবাহিকতায় দৈনিকবাংলা, বাংলাদেশ টাইমস, বিচিত্রাসহ অনেক কাগজ বন্ধ করে দিয়েছিল। এবার ক্ষমতায় এসে অনেক সাংবাদিককে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করেছে। সত্য সংবাদ প্রকাশ করায় অনেকের বিরুদ্ধে সিরিজ মামলা করছে। তিনি আ’লীগকে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়ার আহবান জানান।

Leave a Reply

Advertisement





বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন
০১৮১৮৩৫০৯৪৬
০১৯১১৭৯৬৩৬৩