top3

চবিতে শিক্ষার্থীকে হুমকি ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

Published

on

চবি প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ম্যানেজমেন্ট বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে মারধর, ছাত্রত্ব বাতিল, প্রাণনাশের হুমকি এবং জোরপূর্বক ভিডিও বক্তব্য ধারণের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক মুসাদ্দিকুজ্জামান আল-মামুনের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. রায়হান।

লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী বলেন, কয়েক দিন আগে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে একটি পাল্টাপাল্টি ঝামেলা সৃষ্টি হয়। অনেক দিন পার হয়ে গেলেও সে ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার সাড়ে ১২টার দিকে ছাত্রদল নেতা মামুন দলবল নিয়ে আমাকে ব্রিক ফিল্ড এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে ফোন কেড়ে নিয়ে মারধর, ছাত্রত্ব বাতিল, বহিষ্কার ও মাটিতে পুঁতে ফেলার হুমকি দেয়। এ নিয়ে জোরপূর্বক একটি ভিডিও বক্তব্য ধারণ করে।

ভুক্তভোগী মো. রায়হান বলেন, সেখানে তারা বেআইনিভাবে আমার মুঠোফোনটি ছিনিয়ে নেয় এবং আমাকে আঘাত করে। শুধু তাই নয়, তারা আমাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্রত্ব বাতিল ও বহিষ্কারের ভয় দেখায় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। একপর্যায়ে তারা আমাকে বাধ্য করে জোরপূর্বক একটি ভিডিও বক্তব্য রেকর্ড করে নেয়। এ ঘটনার পর থেকে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

অভিযোগ অস্বীকার করে শাখা ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক মুসাদ্দিকুজ্জামান আল-মামুন বলেন, কয়েক দিন আগে জিরো পয়েন্টে আমার সঙ্গে একধরনের মারামারির ঘটনা ঘটেছিল। আজকে আমরা কয়েকজন বন্ধু স্লুইস গেটের দিকে ঘুরতে গিয়েছিলাম। সেখানে রায়হানের সঙ্গে দেখা হয়। তাকে শুধু জিজ্ঞেস করেছি, কেন ওই ঘটনায় জড়িয়েছিল এবং সে তো জানত আমি তার সিনিয়র। তখন তার সঙ্গে একজন মেয়ে ছিল। বিষয়টি নিয়ে সংক্ষিপ্ত সময় কথা বলার পর আমরা তাকে চলে যেতে বলি।

হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, তাকে কোনো ধরনের হুমকি বা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়নি, মারধরও করা হয়নি। আমি একাই তার সঙ্গে কথা বলেছি। আমার সঙ্গে থাকা অন্যরা উপস্থিত ছিল না তখন।

ভিডিও বক্তব্য নেওয়ার অভিযোগও নাকচ করে ছাত্রদল নেতা বলেন, তার কাছ থেকে কোনো ভিডিও স্টেটমেন্ট নেওয়া হয়নি। ছোট একটি ঘটনাকে বড় করে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তাকে ব্রিক ফিল্ড এলাকায়ও নেওয়া হয়নি।

মুসাদ্দিকুজ্জামান আল-মামুন বলেন, আমার নামে যেহেতু অভিযোগ তুলে একটি বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে, তাই আমার পক্ষ থেকেও বক্তব্য দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেছি।

শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, আমিও বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। এ ঘটনায় এর আগেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছিল। তখনও আমরা বলেছিলাম, ছাত্রদল কখনো অন্যায় সহ্য করে না। একই সঙ্গে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের কথাও ছিল। আসলে যদি কেউ কোনো অন্যায় করে থাকে, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। আর ভুক্তভোগী যদি আমাদের কাছে অভিযোগ দেয়, তাহলে আমরাও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. কামরুল হোসেন বলেন, আমি বিকেল পর্যন্ত অফিসে ছিলাম। তখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ দিয়ে থাকলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষকে ডেকে বিষয়টি তদন্ত করা হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে ব্রাজিল-জাপান ফুটবল ম্যাচ দেখা নিয়ে বিরোধের জেরে ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক মুসাদ্দিকুজ্জামান আল-মামুন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা অ্যাসোসিয়েশনের কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Exit mobile version