ববি প্রতিনিধি
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা ফেরানো, বিভাগভিত্তিক সংঘাত বন্ধ এবং সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে উপাচার্য অধ্যাপক মামুন অর রশীদ বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, ববি শাখা। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপাচার্যের কার্যালয়ে গিয়ে এ স্মারকলিপি জমা দেন সংগঠনের নেতারা।
স্মারকলিপিতে ক্যাম্পাসের সাম্প্রতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাস ও আশপাশের মেসগুলোতে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এসব সংঘাত ব্যক্তিপর্যায় ছাড়িয়ে ‘বিভাগভিত্তিক’ রূপ নিচ্ছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক একাডেমিক কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক সম্পর্ককে মারাত্মকভাবে বিনষ্ট করছে।
নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ক্যাম্পাসের বর্তমান বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ভীতির মধ্যে রয়েছেন। প্রশাসন অবিলম্বে এসব নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে আপসহীন ও কঠোর অবস্থান না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, যার দায়ভার কোনোভাবেই এড়ানো সম্ভব নয়।
ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্মারকলিপিতে তিনটি প্রধান দাবি তুলে ধরা হয়:
- জিরো টলারেন্স নীতি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি: ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের সহিংসতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক বিধি মোতাবেক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ঘটনাগুলো সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দল-মত ও বিভাগ নির্বিশেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ও একাডেমিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
- নিরাপত্তা জোরদার: ক্যাম্পাস, প্রধান ফটক ও সংবেদনশীল স্থানগুলোতে প্রক্টরিয়াল বডি এবং নিরাপত্তাকর্মীদের সার্বক্ষণিক টহল ও নজরদারি বাড়াতে হবে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা শুরুতেই রুখে দিতে প্রক্টরিয়াল বডিকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
- কাউন্সেলিং ও সচেতনতা বৃদ্ধি: বিভাগভিত্তিক রেষারেষি বন্ধে প্রতিটি বিভাগের শিক্ষক ও ছাত্রপ্রতিনিধিদের নিয়ে জরুরি সভা বা ‘কাউন্সেলিং’-এর আয়োজন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক উগ্রতা কমাতে এবং পারস্পরিক সহনশীলতা বাড়াতে জরুরি ভিত্তিতে প্রশাসনিক উদ্যোগ নিতে হবে।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিক্ষাজীবন ও ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষায় উপাচার্য অভিভাবকসুলভ দৃঢ়তা দেখিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন বলে স্মারকলিপিতে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।