Connect with us

top3

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন আখ্যান: তরুণ ও নারীশক্তিতে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়

Published

on

লেখক : অধ্যাপক মো. ওয়াকিলুর রহমান

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণটি কেবল একটি প্রথাগত কূটনৈতিক বক্তব্য ছিল না; এটি ছিল পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের নীতিগত অবস্থান ও অভ্যন্তরীণ আত্মমর্যাদার এক সুসংহত রূপরেখা। বিশ্বজুড়ে সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি, ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যখন নতুন মেরুকরণ ঘটছে, তখন বাংলাদেশকে একটি স্বনির্ভর ও টেকসই অর্থনীতি হিসেবে গড়ে তুলতে নিজস্ব মানবসম্পদকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর কোনো বিকল্প নেই। বৈশ্বিক শান্তি, জলবায়ু মোকাবিলা ও মানবিক সংহতির পাশাপাশি এই ভাষণে যে বার্তাটি সবচেয়ে জোরালোভাবে ধ্বনিত হয়েছে, তা হলো তরুণ ও নারী শক্তিকে কেন্দ্র করে এক অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের রূপান্তর।


বৈশ্বিক শান্তি ও মানবিকতা
বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় যখন বড় বড় অর্থনৈতিক শক্তিগুলো নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে এবং মারণাস্ত্র তৈরিতে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে, তখন বাংলাদেশ জাতিসংঘ থেকে বিশ্বশান্তির স্বার্থে অত্যন্ত সাহসী একটি নৈতিক আহ্বান জানিয়েছে। সমরাস্ত্রে বিপুল অর্থ অপচয় না করে সেই সম্পদ মানবিক কল্যাণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় বিনিয়োগ করার যে দাবি বাংলাদেশ পেশ করেছে। বাংলাদেশের এই দাবি আন্তর্জাতিক দরবারে দেশের কূটনৈতিক পরিপক্কতা ও নৈতিক নেতৃত্বকে সুদৃঢ় করেছে।


একইসঙ্গে ফিলিস্তিনের নিপীড়িত জনগণের প্রতি অকৃত্রিম সংহতি প্রকাশ, বিশ্বব্যাপী অভিবাসী ও জলবায়ু বাস্তুচ্যুতদের অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের দাবি তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম মূলভিত্তি হলো মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত করা। বাংলাদেশসহ অন্যান্য স্বল্পোন্নত দেশসমুহ (LDC) তালিকা থেকে সফল উত্তরণের এই ক্রান্তিলগ্নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে সমতার ভিত্তিতে অংশীদারত্বমূলক সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই আহ্বান বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের এক পরিণত ও আত্মমর্যাদাপূর্ণ অংশগ্রহণের নির্দেশক।


তরুণরা শুধু চাকরিপ্রার্থী নয় বরং উদ্যোক্তা হতে চায়
যেকোনো দেশের টেকসই অগ্রগতির সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হলো তার মানবসম্পদ। বাংলাদেশ বর্তমানে জনমিতিক লভ্যাংশ বা ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’-এর সোনালী যুগে অবস্থান করছে। দেশের এই বিপুল কর্মক্ষম তরুণ শক্তিকে যদি সময়োপযোগী দক্ষতায় উন্নীত করা না যায়, তবে এই সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। তরুণ সমাজকে কেবল প্রথাগত চাকরির বাজারের প্রত্যাশী হিসেবে না দেখে, তাদের স্বাধীন উদ্যোক্তা, গবেষক, প্রযুক্তিবিদ ও আন্তর্জাতিক মানের উদ্ভাবক হিসেবে গড়ে তোলার একটি স্পষ্ট রূপরেখা পেশ করা হয়েছে।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI), বায়োটেকনোলজি ও ডিজিটাল অর্থনীতির দ্রুত বিকাশের এই যুগে তরুণদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে চলতি অর্থবছরেই ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের স্টার্টআপ ফান্ড বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ তহবিলের মাধ্যমে বিনেয়োগের ৫০% ঋণ এবং ৫০% সরকারি সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি নতুন কৃষি ও পল্লি ঋণ নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, বাংলাদেশকে একটি বৈশ্বিক ‘ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ বা উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা অর্থনীতিতে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। প্রথাগত চাকরির সীমাবদ্ধতা ছাড়িয়ে তরুণদের নিজ উদ্যোগে কর্মসংস্থান সৃষ্টির এই নীতি দেশকে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির দিকে ধাবিত করবে।


তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে কর্মমুখী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ
আন্তর্জাতিক বাজারের উপযোগী মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হলো আমাদের বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থার প্রথাগত সনদভিত্তিক কাঠামো। বর্তমানে আমাদের প্রধান সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটগুলোর একটি হলো শ্রেণিকক্ষের তাত্ত্বিক পাঠদান এবং শিল্প খাতের বাস্তব চাহিদার মধ্যকার ব্যবধান। মানসম্মত প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর অভাব, শিক্ষক প্রশিক্ষণের ঘাটতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণার স্বল্পতার কারণে উচ্চ ডিগ্রি নিয়েও বহু তরুণ কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থান পাচ্ছে না; ফলে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা।


এই সংকট উত্তরণে প্রথাগত সনদের গণ্ডি থেকে বের হয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে কারিগরি, ব্যবহারিক ও গবেষণানির্ভর দক্ষতায় রূপান্তর করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। এই বাস্তবতায় শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে পর্যায়ক্রমে জাতীয় জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার সুদূরপ্রসারী ঘোষণাটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তবে কেবল বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; এর স্বচ্ছ ও কার্যকর প্রয়োগ, বিশ্বমানের আধুনিক গবেষণাগার স্থাপন, গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং শিল্পের (Industry) চাহিদার সাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (Academia) নিবিড় সংযোগ সুনিশ্চিত করতে হবে। তবেই শিক্ষা সত্যিকার অর্থে কর্মমুখী মানবসম্পদ তৈরি করতে পারবে এবং তরুণ সমাজ বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হবে।
নারীশক্তির সুদৃঢ় অবস্থান ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন

একটি রাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি নারীকে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে পেছনে ফেলে কোনো টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। জাতিসংঘের মঞ্চে দেওয়া বক্তব্যে নারীদের নিছক অনুদান বা সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধাভোগী হিসেবে না দেখে, জাতীয় অর্থনৈতিক রূপান্তরের কেন্দ্রীয় অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। নারীদের জন্য স্নাতকোত্তর (গ্র্যাজুয়েট) পর্যায় পর্যন্ত অবৈতনিক ও নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি । এছাড়া ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে (SME) নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংকিং খাতের মাধ্যমে বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা প্রদান তাঁদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক গতিশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর ক্ষেত্রে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ উদ্যোগটি পরিবারের নারীপ্রধানের নামে চালুর সিদ্ধান্তটি নারীদের অর্থনৈতিক সুরক্ষার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে তাঁদের মর্যাদা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি করছে। পরবর্তীতে কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডকে একটি সমন্বিত ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’-এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রাষ্ট্রীয় সামাজিক সুরক্ষাকে সাময়িক অনুদানের গণ্ডি থেকে বের করে এক অধিকারভিত্তিক ও স্থায়ী নাগরিক নিরাপত্তা কাঠামোয় রূপান্তর করবে।

অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান
জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs)-এর অন্যতম মূল দর্শন হলো ‘Leave No One Behind’—‘কেউ পিছিয়ে থাকবে না’। এই বৈশ্বিক অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের প্রাতিষ্ঠানিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক রূপান্তরের লক্ষ্যে ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির সঙ্গে এসডিজির সমন্বয় একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ। সরকারি তথ্যমতে, এই সংস্কার কর্মসূচির প্রায় ৭৩ শতাংশ কার্যক্রম সরাসরি এবং ২৭ শতাংশ কার্যক্রম পরোক্ষভাবে এসডিজির বিভিন্ন লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বিশেষ করে, আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির সুফল দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং ডিজিটাল বৈষম্য দূর করার অঙ্গীকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন দর্শনের প্রতিফলন। উন্নয়নের সুযোগ, তথ্য, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সবার সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার এই প্রয়াস বাংলাদেশকে আরও বৈষম্যহীন, সাম্যভিত্তিক ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণের পথে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়কে সুস্পষ্ট করে। ফলশ্রুতিতে, গ্রামীণ তরুণ ও নারীদের উদ্যেক্তা হিসেবে অংশগ্রহণ বেড়ে যাবে।

একই সঙ্গে, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং প্রযুক্তিনির্ভর সুশাসনের সমন্বিত প্রয়াস আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের দায়িত্বশীল, আত্মমর্যাদাশীল ও উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র হিসেবে অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করার সুযোগ সৃষ্টি করে।

‘সবার আগে বাংলাদেশ- সবার জন্য বাংলাদেশ’
একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি কেবল গাণিতিক জিডিপির প্রবৃদ্ধিতে সীমাবদ্ধ থাকে না; তার আসল পরিচয় ফুটে ওঠে নাগরিকের সমতা, স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদার মানদণ্ডে। তরুণদের বাধাহীন উদ্ভাবনী স্বপ্ন এবং নারীদের আত্মবিশ্বাসী অংশগ্রহণের পথ সুগম করাই এখন আগামীর সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার। “সবার আগে বাংলাদেশ—সবার জন্য বাংলাদেশ” এই মূলমন্ত্রকে হৃদয়ে ধারণ করে মানবসম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার ও সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ আজ এক স্বনির্ভর, মানবিক ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে।

পরিশেষে বলা যায়, জাতিসংঘে উপস্থাপিত বার্তাটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে উন্নয়নকে কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান দিয়ে পরিমাপ করা যায় না; বরং এর প্রকৃত মাপকাঠি হলো নাগরিকের সক্ষমতা, অধিকার, সুযোগ ও মর্যাদার উন্নয়ন। ভয় ও বাধার সীমা অতিক্রম করে তরুণরা যেন তাঁদের উদ্ভাবনী স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পায় এবং নারীরা যেন পূর্ণ আত্মবিশ্বাস ও সমঅধিকারের ভিত্তিতে সমাজের মূলধারায় নেতৃত্ব দিতে পারে—তা নিশ্চিত করাই হতে পারে আগামীর বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

“সবার আগে বাংলাদেশ সবার জন্য বাংলাদেশ” এই দর্শনে উজ্জীবিত হয়ে মানুষের সক্ষমতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা, বৈষম্য হ্রাস এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে একটি আত্মমর্যাদাশীল, আত্মবিশ্বাসী ও উদীয়মান শক্তি হিসেবে তার নতুন আখ্যানকে আরও সুদৃঢ় করতে পারে। এই অগ্রযাত্রাকে টেকসই ও অর্থবহ করে তুলতে রাষ্ট্রের পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য।

লেখক : অধ্যাপক মো. ওয়াকিলুর রহমান
সদস্য, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল
ও অধ্যাপক , গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

ডিজিটাল রূপান্তরের পথে বেরোবির লাইব্রেরি:নতুন বই, বিশ্বমানের ই-জার্নালের সাথে চালু হচ্ছে অটোমেশন

Published

on

By

আনাস মাহমুদ; বেরোবি প্রতিনিধি:

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) সেন্ট্রাল লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টারকে আধুনিক, যুগোপযোগী ও প্রযুক্তিবান্ধব করে গড়ে তুলতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে লাইব্রেরিতে অটোমেশন, ই-রিসোর্স বৃদ্ধি, নতুন বই সংযোজন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রয়েছে।

ডিজিটাল ও ই-রিসোর্স সংযোজন:

শিক্ষার্থীদের উচ্চতর গবেষণা ও পড়াশোনার সুযোগ সহজ করতে আন্তর্জাতিক মানের ই-বুকস ও ই-জার্নালের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে দুটি প্রকাশনার (JSTOR এবং Emerald) ই-জার্নাল ক্রয় করা হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইপি (IP) অ্যাড্রেস ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা খুব সহজেই ডাউনলোড ও পড়তে পারছেন।এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) (HEAT) প্রকল্পের আওতায় ৭টি প্রকাশনার প্রায় ৩০,৭০০ শিরোনামের ১১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকার ই-বুকস ও ই-জার্নাল ক্রয়ের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি লাইব্রেরিতে অটোমেশনের প্রাথমিক ধাপের কাজও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

নতুন বই সংযোজন:

শিক্ষার্থীদের পাঠ্যচাহিদা পূরণে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ৩৪ লক্ষ ২০ হাজার টাকার নতুন বই ক্রয় করা হয়েছে, যা ইতিমধ্যে রিডিং রুমে পাঠের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। এছাড়া ২০২৬ সালে প্রায় ২৫ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকার নতুন বই ক্রয়ের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। খুব শীঘ্রই এসব বই লাইব্রেরি সংগ্রহে যুক্ত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নিরাপত্তা:

শিক্ষার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্যে পড়ালেখার পরিবেশ নিশ্চিত করতে লাইব্রেরি ভবনের পশ্চিমাংশে আউটডোর রিডিং জোনে উভয়মুখী বসার বেঞ্চ ও টেবিল স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে উত্তর ও দক্ষিণ অংশেও একই ধরনের বসার ব্যবস্থা করার কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া আউটডোর রিডিং জোনের শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে দুটি আধুনিক ওয়াশরুম নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও (স্টাফদের) যাতায়াতের কথা মাথায় রেখে ভবনের বাইরে গাড়ি রাখার জন্য একটি গ্যারেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে কাজ শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ইনডোর ও আউটডোর উভয় জোনের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে নতুন সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উদ্যোগ নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর ভাবনা:

লাইব্রেরির এই আধুনিকায়ন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আসিফ বলেন, লাইব্রেরিতে JSTOR এবং Emerald-এর মতো আন্তর্জাতিক মানের ই-জার্নাল যুক্ত হওয়া আমাদের জন্য দারুণ একটি সুযোগ। আগে গবেষণার কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক ভালো আর্টিকেল বা বই আমরা পেতাম না। এখন ক্যাম্পাসের আইপি ব্যবহার করে খুব সহজেই এগুলো ডাউনলোড করে পড়তে পারছি। এছাড়া আউটডোর রিডিং জোনে বসার সুন্দর ব্যবস্থা ও নতুন ওয়াশরুমের সুবিধা দীর্ঘ সময় লাইব্রেরিতে পড়ার ক্ষেত্রে বেশ স্বস্তি দেবে।

একই বিষয়ে নাম প্রকায় না করার শর্তে একজন শিক্ষক বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ভিত্তি হলো তার শিক্ষা ও গবেষণা। সেন্ট্রাল লাইব্রেরিকে এভাবে প্রযুক্তিবান্ধব ও আধুনিক করার উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। বিপুল পরিমাণ ই-বুক ও ই-জার্নাল সংযোজন শিক্ষার্থীদের উচ্চতর গবেষণার মানকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। একই সাথে নতুন বইয়ের সংযোজন এবং লাইব্রেরির অটোমেশন প্রক্রিয়া শিক্ষক ও গবেষকদের সময় ও শ্রম দুটোই বাঁচাবে।

অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম:

আর্কাইভস সেকশনকে সমৃদ্ধ করতে ২০১১ সাল থেকে অদ্যাবধি বাছাইকৃত ৬টি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পত্রিকা টেন্ডারের মাধ্যমে বাঁধাইকরণের কাজ চলছে। পাশাপাশি লাইব্রেরি ভবনের ৩য় তলার আংশিক সম্প্রসারণের কাজও খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে শুরু হতে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানান, এসব উন্নয়নমূলক পরিকল্পনার সিংহভাগই ইতিমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত রূপ লাভ করেছে, যা বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মানে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে।

Continue Reading

top3

বেরোবিতে শহিদ আবু সাঈদ গেট নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন

Published

on

By

বেরোবি প্রতিনিধি;

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর-এ শহীদ আবু সাঈদ গেটের নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহিদ আবু সাঈদের পিতা মোঃ মকবুল হোসেন । উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক, রংপুর জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান প্রমুখ।

নির্মাণকাজের উদ্বোধন শেষে বেরোবি রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোঃ ফেরদৌস রহমানের সঞ্চালনায় এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, এমপি। তিনি বলেন, আবু সাঈদ মুক্তিকামী মানুষের প্রতীক। আমরা রংপুরকে নিয়ে তিনটি কারণে গর্ববোধ করতে পারি। প্রথমত, যার নামে এই বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া। দ্বিতীয়ত, রংপুরের আঞ্চলিক ভাষায় রচিত এই ভাওয়াইয়া গানকে সারা বিশ্বে সমৃদ্ধ করেছেন সুরসম্রাট আব্বাস উদ্দিন। এবং তৃতীয়ত, শহিদ আবু সাঈদ, জুলাই আন্দোলনের বীর আবু সাঈদ যেভাবে বুক চিতিয়ে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েছে, রংপুরের মানুষ যে সাহসী- তা সারা বাংলাদেশ তথা বিশ্বের কাছে এখন পরিচিত। এই তিন ব্যক্তিত্ব রংপুর অঞ্চলের গর্ব। মন্ত্রী বলেন, ২৪-এর আন্দোলনে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকারের অধীনে বাংলাদেশ এখন সঠিক পথে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি জানান. বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে নেওয়া বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে একনেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে পাস করার ব্যাপারে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। তিনি বলেন, সারা বিশ্বে যে কয়টি গণঅভ্যুত্থান হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম জুলাই আন্দোলন। শহিদ আবু সাঈদের আত্মদানের ঘটনা বিশ্বের বুকে সবার উপরে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তিনি বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প একনেকে পাস করা হবে।

তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানোগ্রামে আধুনিক ও যুগোপযোগী সাবজেক্ট যেমন—রোবটিক্স, এআই, সাইবার সিকিউরিটি, ডেটা সায়েন্স—এগুলি খুব দ্রুত চালু করা হবে। এছাড়া শিক্ষক সংকট দূর করতে নতুনভাবে শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রমও শুরু হবে। উত্তরাঞ্চলের এই বিদ্যাপীঠকে এগিয়ে নিতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।

সভাপতির বক্তব্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ শওকাত আলী বলেন, শহিদ আবু সাঈদ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্ব এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক। তাঁর স্মৃতিবিজড়িত এই গেট শুধু একটি প্রবেশদ্বার নয়, এটি আমাদের স্বাধীনতা, মূল্যবোধ ও চেতনার এক অবিচ্ছেদ্য স্মারক। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সহযোগিতায় এবং বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য যুগোপযোগী নতুন কিছু সাবজেক্ট বা বিভাগ চালুর জন্য ইতিমধ্যেই ইউজিসিতে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বর্তমান সরকারের পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় আরো সমৃদ্ধ হবে বলে উপাচার্য আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বেরোবি শিক্ষার্থী শামসুর রহমান সুমন, রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন এবং রিফাত হোসেন রাফি। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

Continue Reading

top3

জাপানে উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তির সুযোগ নিয়ে বাকৃবিতে সেমিনার

Published

on

By

বাকৃবি প্রতিনিধি:

জাপানে উচ্চশিক্ষা, সরকারি বৃত্তি ও গবেষণার সুযোগ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অবহিত করতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জাপান এডুকেশন সেমিনার ২০২৬’। এতে জাপানের উচ্চশিক্ষাব্যবস্থা, মনবুকাগাকুশো (মেক্সট) বৃত্তি, আবেদন প্রক্রিয়া, গবেষণা ও ক্যারিয়ার গঠনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে যৌথভাবে সেমিনারটির আয়োজন করে জাপানিজ ইউনিভার্সিটিজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ (জুয়াব) ও বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপান দূতাবাস।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাপান দূতাবাসের জনসংযোগ ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান ইউ আওয়াগি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জুয়াবের সভাপতি অধ্যাপক ড. এ টি এম জাফরুল আজম। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এম জুলফিকার রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, বর্তমানে জাপানে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং জাপানি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের নেটওয়ার্ক শক্তিশালী হওয়ায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য দেশটিতে উচ্চশিক্ষার পথ আরও সহজ হচ্ছে।

তিনি বলেন, মাস্টার্স, পিএইচডি ও পোস্টডক্টরাল পর্যায়ে জাপানে বৃত্তিসহ পড়াশোনা ও গবেষণার বহুমুখী সুযোগ রয়েছে। উন্নত গবেষণা অবকাঠামো, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং সাংস্কৃতিক সাদৃশ্যের কারণে দেশটি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তৃতীয় ভাষা চালুর নীতিমালার আওতায় জাপানি ভাষা শেখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. এ টি এম জাফরুল আজম বলেন, জাপানে সরকারি বৃত্তির কোটা কিছুটা কমায় প্রতিযোগিতা বেড়েছে। তবে বেসরকারি বৃত্তি ও গবেষণা তহবিলের সুযোগও বাড়ছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতার আওতায় শিক্ষার্থীরা টিউশন ফিতে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাপান দূতাবাসের জনসংযোগ ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান ইউ আওয়াগি বলেন, দূতাবাসের সুপারিশে বৃত্তির আসনসংখ্যা সাধারণত দশটি বা তার কম হওয়ায় আবেদনকারীদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা থাকে। গত দুই বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, মাস্টার্স পর্যায়ে বৃত্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত গবেষণার সঙ্গে সম্ভাব্য তত্ত্বাবধায়কের গবেষণার সামঞ্জস্য থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়, অধ্যাপকের গবেষণার ক্ষেত্র ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত কোর্স ও উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় খুঁজতে ‘নাভি জাপান’-এর মতো তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সেমিনারে জাপানে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. ইমদাদুল হক এবং বাকৃবির কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এম. মাসুদ রানা।

এ সময় জাপানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির যোগ্যতা, বৃত্তির আবেদন প্রক্রিয়া, গবেষণা প্রস্তাব প্রস্তুত, তত্ত্বাবধায়ক নির্বাচন ও উচ্চশিক্ষা-পরবর্তী কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। পরে প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন জিজ্ঞাসার উত্তর দেন আলোচকেরা।

Continue Reading

Trending