top1

অপরিবর্তিত থাকছে জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার 

Published

on

মধ্যবিত্ত পরিবারের কথা ভেবে জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার চলতি বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ছয় মাসের জন্য অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ের সরকারি ঋণ ও আর্থিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

বর্তমানে মেয়াদ ও বিনিয়োগের পরিমাণ বিবেচনায় সঞ্চয়পত্র থেকে একজন বিনিয়োগকারী সর্বোচ্চ সুদ পেয়ে থাকেন ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত। পরে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সঞ্চয় অধিদপ্তর এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করবে বলেছেন চিঠিতে সই করা অভ্যন্তরীণ ঋণ ব্যবস্থাপনা শাখার কর্মকর্তা ফারহানা জাহান উপমা।

এর আগে সঞ্চয় অধিদপ্তর ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর সুদহার কমানোর প্রজ্ঞাপন জারি করে। বছরের প্রথম দিন ১ জানুয়ারি থেকে তা কার্যকর হয়। এতে সঞ্চয়পত্রের বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে সুদহার কমানো হয়।

তবে মধ্যবিত্ত সঞ্চয়পত্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে, এমন শঙ্কায় চার দিন পর চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি প্রজ্ঞাপনটি স্থগিত করা হয়। ফলে জানুয়ারি-জুন সময়ের জন্যও আগের হারে সুদ অপরিবর্তিত রয়ে যায়। বর্তমানে ছয়মাস পরপর সঞ্চয়পত্রের সুদহার নির্ধারণ করে আসছে আইআরডির সঞ্চয়পত্র অধিদপ্তর।

স্থগিত হওয়া প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অর্থবছরের শেষ ছয় মাস, অর্থাৎ জানুয়ারি-জুন পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে সাড়ে সাত লাখ টাকা বা এর চেয়ে কম বিনিয়োগে সর্বোচ্চ মুনাফা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ; সর্বনিম্ন ধরা হয়েছিল ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

তার আগে গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের জন্য এ ধরনের সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার ছিল ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত।

বৃহস্পতিবার সরকারের সবশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একজন বিনিয়োগকারী সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করে একই হারে তথা আগের মতই সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ সুদ পাবেন। তবে বিনিয়োগের মেয়াদ অনুযায়ী সুদের হারে ভিন্নতা রয়েছে।

পরিবার সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ মুনাফা নির্ধারণ করা আছে ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি হলে এমন বিনিয়োগে সুদের হার আগের মতোই ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ থাকছে।

বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে পাঁচ বছর মেয়াদি বিনিয়োগের সুদের হার সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে আগের মতই ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ থাকছে। সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি হলে তা ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ।

এছাড়া তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকার কম বিনিয়োগ হলে সুদের হার ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ। বিনিয়োগ সাড়ে সাত লাখ টাকার বেশি হলে তা ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

ডাকঘর সঞ্চয়পত্রে তিন বছর মেয়াদে সাড়ে সাত লাখ টাকার বিনিয়োগের সুদহার ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং সাড়ে সাত লাখ টাকার বেশি হলে তা ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। সরকার ছয় মাস পরপর সঞ্চয়পত্রে সুদহার ঘোষণা করে। তবে সুদহার বদলালেও যখন যে স্কিমে বিনিয়োগ করা হয়, সেটির মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেনার সময়কার সুদহারই বহাল থাকে।

একক বা যৌথভাবে সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা বিনিয়োগে এক ধরনের সুদহার পাওয়া যায়। এর চেয়ে বেশি বিনিয়োগে অপেক্ষাকৃত কম সুদহার দেয় সরকার। বিনিয়োগের মেয়াদ অনুযায়ী সুদের হারেও ভিন্নতা রয়েছে। এক স্কিমে এক থেকে পাঁচ বছরের জন্য বিভিন্ন মেয়াদে বিনিয়োগ করা যায়। সঞ্চয় স্কিমে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় পরিবার সঞ্চয়পত্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Exit mobile version