কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার সালমানপুর গ্রামের নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী করে তুলতে ‘আশা পথ’ প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি শুরু করেন একদল শিক্ষার্থী।
‘আশা পথ’ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মারিয়াম আক্তার শিল্পী, হাসিন আরমান, লাবীবা রশিদ রাফা, আব্দুল্লাহ হোসেন তাজিম, লিয়ন ত্রিপুরা ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের সুপ্তি রানী সাহা।
প্রকল্পের লক্ষ্য হচ্ছে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অন্তত ২ থেকে ৮ জন নারীর নিয়মিত আয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। বাস্তবায়ন শেষে অংশগ্রহণকারী নারীরা শতভাগ দক্ষতা অর্জন করা এবং বাণিজ্যিক মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনে সক্ষম করা।
প্রকল্পের সদস্য মারিয়াম আক্তার শিল্পী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো নারীদের এমন একটি দক্ষতা শেখানো, যাতে তারা নিজেরা আয় করতে পারেন এবং পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারেন। আমরা শুধু প্রশিক্ষণই দিচ্ছি না, পণ্য তৈরি থেকে শুরু করে বাজারজাত করার বিষয়েও সহযোগিতা করছি। আশা করি, এই উদ্যোগ তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করবে।’
আশ্রয় প্রকল্পে বসবাসকারী পুষ্প রাণী বলেন, ‘আমরা একই ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গা থেকে এখানে এসে বসবাস করছি। কিন্তু এখানে এসে আমরা খুবই অসহায় হয়ে পড়েছি। এখানে তেমন কোনো কাজকর্ম নেই। যদি আমরা কিছু কাজের সুযোগ পেতাম, তাহলে আমাদের অনেক উপকার হতো। এতে আমাদের সংসার চালানো সহজ হতো এবং আমাদের বাচ্চারা ভালোভাবে লেখাপড়া করতে পারত।’
প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, ‘আশা পথ’ শুধু নারীদের আয় বৃদ্ধির সুযোগই সৃষ্টি করেনি, বরং তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে এবং স্থানীয় পর্যায়ে নকশিকাঁথার ঐতিহ্য সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে এটি অন্যান্য নারীদেরও দক্ষতাভিত্তিক উদ্যোক্তা হওয়ার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।