top3

ইবিতে ‘মানার শেখানোর’ নামে র‍্যাগিং, সোচ্চারের নিন্দা ও প্রতিবাদ

Published

on

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট (টিএইচএম) বিভাগে নবীন শিক্ষার্থীদের ‘ম্যানার শেখানো’ ও ‘পরিচয়পর্ব’-এর নামে র‍্যাগিং দেওয়ার অভিযোগ উঠায় সোচ্চার স্টুডেন্ট’স নেটওয়ার্ক (এসএসএন) ইবি শাখা তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

সোমবার (১০ জুলাই) সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল রাহাত ও সাধারণ সম্পাদক সাগর আহমেদ শিবলু এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল রাহাত ও সাধারণ সম্পাদক সাগর আহমেদ শিবলু এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, একজন নবীন শিক্ষার্থীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা, অপমানজনক বা অশ্লীল বক্তব্য দিতে বাধ্য করা, জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ ও প্রচার করা, শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ফেলা কিংবা কোনো নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধের হুমকি দেওয়া-কোনোটিই ‘ম্যানার শেখানো’, ‘সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্ক’ কিংবা ‘পরিচয়পর্ব’-এর অংশ হতে পারে না। এ ধরনের আচরণ শিক্ষার্থীর মর্যাদা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতার ওপর সরাসরি আঘাত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশের পরিপন্থী। র‍্যাগিং কোনো গ্রহণযোগ্য আচরণ নয়; এটি শিক্ষার্থীর মর্যাদা ও নিরাপত্তার পরিপন্থী এক ধরনের নিপীড়ন। সুস্থ সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্ক কখনোই ভয়, অপমান, হুমকি বা জবরদস্তির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।

অভিযোগগুলো তদন্তে একটি নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত কমিটি গঠন করে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে। তদন্তের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের বক্তব্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য, লিখিত অভিযোগ, ভিডিও/ডিজিটাল প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট সব তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করতে হবে।

উল্লিখিত ঘটনার তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িত প্রত্যেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন ও শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক ও যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো ধরনের চাপ, ভয়ভীতি, হুমকি, সামাজিক হয়রানি বা অভিযোগ প্রত্যাহারের চেষ্টা বরদাশত করা যাবে না। তাঁদের পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিতে হবে।

অভিযোগ প্রত্যাহারে চাপ প্রয়োগ, আটকে রাখা কিংবা নিরাপত্তা-হুমকির যে অভিযোগ উঠেছে, সেটিকেও মূল অভিযোগের বাইরে না রেখে পৃথকভাবে তদন্ত করতে হবে। প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের ভবনের ছাদে ওঠানো, রাতের বেলায় ক্যাম্পাসে ঘোরানো, শারীরিক ঝুঁকিপূর্ণ কোনো কর্মকাণ্ডে বাধ্য করা, অপমানজনক আচরণ বা অশালীন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে বাধ্য করার মতো যেকোনো কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগ ও হলে র‍্যাগিংবিরোধী নীতিমালা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন, নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ ও নিরাপদ অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

র‍্যাগিং বা নিপীড়নের শিকার শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে ও গোপনীয় মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

শিক্ষার্থীরা যাতে প্রতিশোধ, হয়রানি বা সামাজিক চাপের আশঙ্কা ছাড়াই অভিযোগ জানাতে পারেন, সেজন্য একটি স্বাধীন, গোপনীয় ও সহজলভ্য অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।

ইবি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান, কোনো ব্যক্তি, ব্যাচ, সংগঠন বা প্রভাবের প্রতি পক্ষপাত না দেখিয়ে অভিযোগগুলোর দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করুন এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষার্থী র‍্যাগিং, নিপীড়ন, হুমকি বা হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন। শিক্ষাঙ্গন হবে জ্ঞান, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার স্থান-ভয়, অপমান ও নিপীড়নের নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Exit mobile version