ক্যাম্পাস

ইবি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎসহ একাধিক অভিযোগ

Published

on

প্রতিনিধি, ইবি

সংগঠনের প্রায় ১৮ হাজার টাকা আত্মসাত, হল ডিবেটিং সোসাইটির কমিটিতে ছাত্রলীগ নেতাকে সভাপতিত্ব দেওয়া, মোরাল প্যারেন্টিং ট্রাস্ট থেকে বয়ক্তিগত তথ্য গোপন করে বৃত্তি নেওয়া সহ একাধিক অভিযোগ উঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির (আইইউডিএস) সভাপতি ইয়াছিন আলীর বিরুদ্ধে। এছাড়াও রাজনৈতিক ট্যাগিং, সদস্যদের হয়রানি ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে একক আধিপত্য বিস্তারেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এ সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইয়াছিন আলী।

গত ১২ জুলাই ইয়াছিন আলীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন ডিবেটিং সোসাইটির সদস্য মিশুক শাহরিয়ার। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, ব্যক্তিগত আক্রোশ ও রাজনৈতিক ট্যাগিং দিয়ে তাকে কমিটিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে। তার দাবি, আইইউডিএস নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর তাকে ‘শিবির’ ট্যাগ দিয়ে কমিটিতে রাজা হয়নি। একই সঙ্গে তার সম্পর্কে জুনিয়র সদস্য ও হল প্রভোস্টের কাছে ভুল বা অসত্য তথ্য দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। মিশুকের অভিযোগ, আইইউডিএসের কমিটি গঠনের সময় উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্তও অনুসরণ করা হয়নি। তিনি সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও একেবারেই কমিটিতে রাখা হয়নি, অন্যদিকে হল কমিটির আনুষ্ঠানিক সদস্য নন এমন একজনকে কমিটিতে দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।

সম্প্রতি আইইউডিএসের মডারেটর বরাবর দেওয়া আরেক লিখিত অভিযোগে সংগঠনটির শিক্ষা ও প্রকাশনা সম্পাদক ও সাদ্দাম হোসেন হল ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি মো. শান্ত শিশির ইয়াছিন আলীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে পছন্দের ব্যক্তিদের দিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া এক্সিকিউটিভ কমিটি বা হল ডিবেটিং সোসাইটিগুলোর সঙ্গে আলোচনা না করে বিতার্কিকদের জাতীয় উৎসবে পাঠানো, বিভিন্ন ব্যক্তিকে রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে হয়রানি, মেধাবী বিতার্কিকদের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে দূরে রাখা এবং হলগুলোর সঙ্গে সমন্বয়হীনতার অভিযোগও করেন তিনি। অভিযোগে শিশির আরও বলেন, ইয়াছিন আলীর বিরুদ্ধে আইইউডিএসের প্রায় ১৮,০০০ টাকা আত্মসাতের মতো অর্থনৈতিক অস্বচ্ছতা রয়েছে।

এছাড়াও গত ২০ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে লালন শাহ হল ডিবেটিং সোসাইটির সদ্য ঘোষিত কমিটি স্থগিত করেন হলটির প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। কমিটির সভাপতি মোহাইমিনুল ইসলাম রক্তিমের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ও কমিটিতে যোগ্যদের মূল্যায়ন না করার অভিযোগ ওঠে। কমিটি গঠনে আইইউডিএস সভাপতি ইয়াছিন আলীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও সামনে আসে। প্রভোস্ট এ সম্বন্ধে জানান, এ কমিটিকে আইইউডিএসের সভাপতি ইয়াসিন আলী শুভেচ্ছা জানায়। তাড়াহুড়ো করে তার কাছ থেকে অনুমোদন নেওয়া হলেও পরে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি স্থগিত করা হয়েছে।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে ইয়াছিন আলী বলেন, জাতীয় বিতর্ক উৎসবে জ্যেষ্ঠদের মতামতের ভিত্তিতে সব হল থেকে পর্যায়ক্রমে বিতর্কিক পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় আমি নিজে ফোন দিয়ে মিশুক এবং শিশিরকে বলেছি। কিন্তু তারা সেটা মানা করে দেয় এবং করবেনা বলে। এরপর ঝিনাইদহ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কর্তৃক আয়োজিত একটি বিতর্কতে আমি ২০-২১ শিক্ষাবর্ষের বিচারকদের কে পাঠাই। সেখানে সিনিয়রদের সাথে একমাত্র জুনিয়র ২১-২২ এর শান্ত শিশিরকে পাঠিয়েছি আমি। তারপরেও তাদের এই অভিযোগ।

মিশুক শাহরিয়ারের হয়রানি ও তথ্য গোপনের অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে তিনি বলেন, সে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে হুমকি দিয়ে প্রোগ্রাম বন্ধ করিয়েছে এবং ভরা মজলিসে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে ডিবেটিং সোসাইটিকে অপমান করেছে। শিবির ট্যাগিং দিয়ে কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টিও ভিত্তিহীন, মূলত তার বারবার বেয়াদবি ও শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণেই তাকে কমিটিতে না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের ব্যাপারে বলেন, ২০২৩ সালে আন্তঃবিভাগ বিতর্কে ডিপার্টমেন্ট থেকে সংগৃহীত ১৮,৫৮০ টাকা তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত আবু হুরায়রা ভাই ফেরত দিয়েছেন, যা বর্তমান ট্রেজারার রাকিবুল ইসলামের কাছে জমা আছে। তথ্য গোপন করে বৃত্তি নেওয়ার অভিযোগও ভিত্তিহীন; আমি এনটিআরসিএ-র ইবতেদায়িতে চাকরি পাওয়ার বিষয়টি জানানো হলে সংশ্লিষ্টরা সানন্দে গ্রহণ করেন এবং মাস্টার্স শেষ করে পূর্ণাঙ্গ যোগদানের পর বৃত্তি ছাড়ার বিষয়ে সম্মতি দেন। তাছাড়া, মিশুককে কখনো শিবির ট্যাগ দেওয়া হয়নি, বরং সে লালন শাহ হল ডিবেটিং সোসাইটিকমিটিতে সভাপতি না বানালে সিন ক্রিয়েট ও নিউজ করানোর হুমকি দেয় এবং বিভিন্ন সময়ে সিনিয়রদের সাথে বেয়াদবি করে।

ইবি ডিবেটিং সোসাইটির মডারেটর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জুলফিকার হোসেন এ নিয়ে বলেন, সংগঠনের সভাপতির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এসেছে, তা মূলত ব্যক্তিগত রেষারেষি ও পূর্বের কিছু ভুলভ্রান্তির ফল, যা আগেও একবার সমাধান করা হয়েছিল। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের অসামঞ্জস্য তৈরি না হয়, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক আছি এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে বসে স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে।

সংগঠনের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, ইতোপূর্বে ব্যাংকে সংগঠনের নামে নিজস্ব কোনো অ্যাকাউন্ট ছিল না। তবে সম্প্রতি ‘আইইউডিএস’-এর নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, যাতে পূর্বের ও বর্তমানের সকল আর্থিক লেনদেন স্বচ্ছতার সাথে সংরক্ষণ করা যায়। কমিটি গঠনে বঞ্চিত করার ব্যাপারে বলেন, আইইউডিএস-এর অর্ডিন্যান্সে কিছু অসামঞ্জস্য রয়েছে। একটি সহায়ক কমিটির মাধ্যমে এসব নিয়মকানুন ও গঠনতন্ত্র পর্যালোচনা করে সংশোধন করা হবে। আমাদের মূল লক্ষ্য কোনো বিতর্ক বা ব্যক্তিগত কাদা ছোঁড়াছুঁড়িতে আটকে থাকা নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ে বিতর্ক চর্চার পরিবেশকে আরও সুদৃঢ় করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Exit mobile version