আন্তর্জাতিক ডেস্ক- ৪ নভেম্বর ২০২৫-ইসরায়েলি সেনারা দক্ষিণ ইসরায়েলের বন্দিশিবিরে এক ফিলিস্তিনি বন্দিকে গণধর্ষণ ও নির্যাতন করেছে এমন একটি ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। টিআরটি -এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাঁচজন রিজার্ভ সেনা এই ঘটনায় অভিযুক্ত, যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ভিডিওটি প্রকাশের অনুমতি দিয়েছিলেন ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান আইন কর্মকর্তা মেজর জেনারেল ইয়িফাত টোমার-ইরুশালমি, যিনি পরে পদত্যাগ করেন এবং আটক হন।
তিনি বলেন, “আমি ভিডিওটি প্রকাশ করেছি যাতে সেনাবাহিনীর আইন বিভাগকে ঘিরে মিথ্যা প্রচারণার জবাব দেওয়া যায়।”
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই ভিডিও ফাঁসকে “ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ জনসংযোগ আক্রমণ” বলে অভিহিত করেছেন।
অভিযুক্ত সেনারা মুখ ঢেকে সুপ্রিম কোর্টের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের “শত পুরুষের শক্তি” বলে দাবি করে এবং ধর্ষণের জন্য প্রশংসা দাবি করে। তারা বলেন,
“আমরা নীরব থাকব না। আমাদের বিচার নয়, আমাদের কৃতিত্বের স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।”
জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন জানিয়েছে, এই নির্যাতন ও ধর্ষণ একটি যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
TRT World-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, Sde Teiman বন্দিশিবিরে আবু ঘরিবের মতো নির্যাতন চালানো হচ্ছে, যেখানে বিদ্যুৎ, কুকুর, আগুন নির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করে বন্দিদের উপর নির্যাতন চালানো হয়।
TRT World-এর বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্টোবর ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি অভিযানে প্রায় ৭০,০০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
১১,০০০ ফিলিস্তিনি ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি ফ্রান্সেসকা আলবানিজ বলেছেন,
“ইসরায়েলের এই গণহত্যা এককভাবে সংঘটিত হয়নি। আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর সহায়তা ও নীরবতা এই অপরাধকে সম্ভব করেছে।”