top1

উপসাগরীয় দেশগুলোতে রাতভর হামলা চালিয়েছে ইরান

Published

on

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এক চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে যখন সোমবার (৯ মার্চ) ভোররাতে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের পক্ষ থেকে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার নতুন এক তরঙ্গ আছড়ে পড়ে। কাতার, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতজুড়ে চালানো এই হামলায় অন্তত ৩২ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

কাতারের রাজধানী দোহায় স্থানীয় সময় রাত ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে উচ্চমাত্রার সতর্কতা জারি করা হয় এবং বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে জরুরি বার্তা পাঠানো শুরু হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই আকাশজুড়ে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যা ছিল ইরানের দিক থেকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্য করে কাতারি প্রতিরক্ষা বাহিনীর ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্টা আঘাত।

দোহার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তারা অন্তত ১২ থেকে ১৩টি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রায় ১৫ মিনিট পর হুমকির মাত্রা কমিয়ে আনা হয় এবং জানানো হয় যে বিপদ আপাতত কেটে গেছে।

কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী সফলভাবে কাতারকে লক্ষ্য করে চালানো একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করেছে। তবে এই হামলা কেবল কাতারে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং পুরো অঞ্চলজুড়ে ইরানের এই আক্রমণের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছিল যা প্রতিবেশী দেশগুলোর জননিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

বাহরাইনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয় যখন দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম জানায়, রাজধানী মানামার দক্ষিণের সিতরা এলাকায় ইরানের ড্রোন হামলায় অন্তত ৩২ জন নাগরিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে শিশু ও কিশোর-কিশোরীও রয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতেও রাতভর এবং সোমবার সকাল পর্যন্ত একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের দিক থেকে আসা এসব হুমকি মোকাবিলায় বিরতিহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে ফুজাইরাহ তেল শিল্প এলাকায় একটি ড্রোন ভূপাতিত করার সময় সেটির ধ্বংসাবশেষ পড়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর চালানো এই সুসংগঠিত হামলা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান প্রমাণ করে যে মধ্যপ্রাচ্যের ছায়াযুদ্ধ এখন সরাসরি সংঘাতের দিকে মোড় নিয়েছে।

বর্তমানে এই দেশগুলোর আকাশসীমা এবং সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং এই হামলার সমুচিত জবাব দেওয়ার কথা ভাবছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Exit mobile version