top3

কসাই আনিসকে ৬ টুকরো করলেন প্রেমিকাচট্টগ্রাম ব্যুরো

Published

on

পাঁচ বছর ধরে চলা প্রেমের সম্পর্ক শেষ একদিনে। খোদ প্রেমিকা সুফিয়া আক্তারের (৩৯) বাসায় বলি হলেন প্রেমিক মো. আনিস। প্রেমের সম্পর্কে বাধা হয়ে দাঁড়ায় দুজনের বিরোধ। বিরোধের বিষয় ধামাচাপা দিতে ওই নারী কৌশলে আনিসকে বাসা ডেকে আনেন। খুনের কাজে সহযোগিতা করেন আরও দুজন। এ ঘটনায় নারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার নারীর বরাতে পুলিশ জানায়, আনিস পেশায় কসাই। গত বুধবার বিকেলে নগরের অক্সিজেন শহীদনগর এলাকায় অবস্থিত তার বাসায় আনিসকে ডেকে নেন তিনি। এরপর প্রথমে আনিসের মাথায় আঘাত করেন। পরে তার ভাই ও আরেক যুবকের সহায়তায় আনিসের গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। হত্যার পর আনিসের দুই হাত ও পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। পুরো শরীর ছয়টি টুকরো করে পলিথিনে মুড়িয়ে ফেলা হয় আশপাশের খাল ও ভাগাড়ে।

থানা সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় লোকজন পলিথিনে মোড়ানো দুটি হাত কুকুরের টানাটানি করতে দেখে থানায় খবর দেন। সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, দুটি হাত ও দুটি পা উদ্ধারের পর পরিচয় নিশ্চিতে হাতের আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়। এতে আনিসের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপর তার মুঠোফোন নম্বরের কললিস্টের সূত্র ধরে ওই নারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যেই নিহত আনিসের মাথাসহ শরীরের বাকি অংশও উদ্ধার করে পুলিশ।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি জাহেদুল কবির বলেন, গ্রেপ্তার নারীর দাবি, তার সঙ্গে আনিসের কিছু ছবি রয়েছে। এসব ছবি দিয়ে জিম্মি করে আনিস তার সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ভাই ও এক স্বজনের সহায়তায় আনিসকে খুন করেছেন। তবে নিহত আনিসের স্বজনেরা ওই নারীর দাবি সত্য নয় বলে দাবি করেছেন। তারা জানান, ওই নারীর কাছে আনিস দুই লাখ টাকা পাওনা রয়েছেন। এসব টাকা চাওয়ার কারণে তাকে খুন করা হয়েছে। তদন্তের পর এসব বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, শুক্রবার রাতে বায়েজিদ থানায় মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া নারী বিবাহিত। তার সঙ্গে আনিসের প্রায় পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক। তবে সম্প্রতি দুজনের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জেরে আনিসকে খুন করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Exit mobile version