ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে সংঘটিত গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি মামলায় ১৩ সেনা কর্মকর্তাকে আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ হাজির করা হয়েছে। তাদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনাল এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত সেনা ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
রোববার সকাল ১০টার দিকে কড়া নিরাপত্তায় প্রিজনভ্যানে করে আসামিদের ট্রাইব্যুনালে আনে পুলিশ। পরে একে একে তাদের প্রিজনভ্যান থেকে নামিয়ে হাজতখানায় নেওয়া হয়।
এর আগে এই দুটি মামলা এবং জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা আরেকটি মামলাসহ মোট তিন মামলায় ২৫ জন সাবেক ও কর্মরত সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৮ অক্টোবর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। একই দিনে প্রসিকিউশন ফরমাল চার্জ দাখিল করে।
পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর হেফাজতে থাকা ১৫ কর্মকর্তাকে ২২ অক্টোবর সকালে সাধারণ পোশাকে বিশেষ প্রিজনভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। শুনানি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তাদের ঢাকা সেনানিবাসের ঘোষিত সাব-জেলে স্থানান্তর করা হয়।
গুম ও নির্যাতনের দুই মামলায় পলাতক আসামিদের হাজির হওয়ার জন্য বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষার জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যা ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে।
এ ছাড়া পৃথক দুটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচ মহাপরিচালকসহ মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধেও ট্রাইব্যুনাল-১ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।