top1

ট্রাফিক আইন ভাঙ্গলেই ডিমেরিট পয়েন্ট, বাতিল হতে পারে লাইসেন্স

Published

on

রাজধানীর সড়কে ট্রাফিক আইন ভাঙলে এখন চালকদের শুধু জরিমানা নয়, ড্রাইভিং লাইসেন্স হারানোর ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় আইন লঙ্ঘনের সঙ্গে সঙ্গে চালকের লাইসেন্সে যুক্ত হচ্ছে ডিমেরিট পয়েন্ট। মোট ১২ পয়েন্ট জমা হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে লাইসেন্স। পাশাপাশি ১৩ ধরনের নির্দিষ্ট অপরাধে পয়েন্ট কাটা হচ্ছে, কোনো চালকের পয়েন্ট শূন্যে নেমে এলে তার লাইসেন্সও বাতিল করা হবে।

এই পদ্ধতি আপাতত চার চাকার যানবাহনের চালকদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। আগে ট্রাফিক আইন ভাঙলে মামলা বা জরিমানা গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের বিপরীতে হতো, যার খরচ বহন করতেন মালিকরা। তবে নতুন ব্যবস্থায় এখন দায় সরাসরি চালকের লাইসেন্সের ওপরও পড়ছে।

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে এখন কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ। আইন ভঙ্গ করলেই মামলা হচ্ছে, সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে অটো মামলা ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে প্রতিটি অপরাধের তথ্য চালকের লাইসেন্সে পয়েন্ট আকারে যুক্ত করা হচ্ছে। নির্ধারিত সীমায় পৌঁছালে লাইসেন্স স্থগিত হয়ে যাবে।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, গত দুই মাসে হাজারের বেশি চালক এই ব্যবস্থায় পয়েন্ট হারিয়েছেন। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান বলেন, জরিমানা বা শাস্তি দেওয়া মূল লক্ষ্য নয়; বরং চালকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করাই উদ্দেশ্য।

তবে পয়েন্ট হারানোর পর আপিলের সুযোগ রাখা হয়েছে। কোনো চালক পরবর্তী ছয় মাসে নিয়ম ভঙ্গ না করলে দুই পয়েন্ট পুনরায় যুক্ত করা হবে।

অন্যদিকে বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, অনেক চালকই এখনো এই ডিমেরিট পয়েন্ট ব্যবস্থা সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নন। একাধিক চালক জানিয়েছেন, নতুন নিয়ম চালু হলেও তারা বিষয়টি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাননি। তবে কেউ কেউ মনে করছেন, নিয়ম মেনে চললে সমস্যা এড়ানো সম্ভব।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু আইন চালু করলেই হবে না, এর কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, সড়ক ব্যবস্থাকে লেনভিত্তিক করা এবং চালকদের বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণের আওতায় আনা দরকার। তার মতে, দেশের অধিকাংশ চালকই অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে গড়ে ওঠায় তাদের দক্ষতা ও সচেতনতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Exit mobile version