বিয়ে বা সন্তান নেওয়ার মতো জীবনের বড় সিদ্ধান্তগুলো সামাজিক চাপ কিংবা বয়সের অজুহাতে নিতে রাজি নন বলিউড অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন। তিনি বিশ্বাস করেন, যখন একজন মানুষ মানসিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত, তখনই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
ভবিষ্যতের এই যাত্রাকে চাপমুক্ত রাখতেই কয়েক বছর আগে তিনি নিজের ডিম্বাণু সংরক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নেন, যা সম্প্রতি ৩৫ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী প্রথমবারের মতো এক পডকাস্টে প্রকাশ করেছেন।
‘মিমি’ ছবির শুটিংয়ের সময় কঠিন সিদ্ধান্ত
মজার বিষয় হলো, ছবির চরিত্রের প্রয়োজনে তখন তাকে ওজন বাড়াতে হচ্ছিল। কৃতি জানান, ডিম্বাণু সংরক্ষণের প্রক্রিয়ায় শরীরে একধরনের ফোলাভাব তৈরি হয়।
যেহেতু সেই সময়ে তার ওজন বাড়ানোরই দরকার ছিল এবং দুই মাস কোনো শুটিং ছিল না, তাই সময়টাকে তিনি উপযুক্ত মনে করে কাজটি সেরে ফেলেন। তাছাড়া ‘মিমি’ ছবিটির গল্পও ছিল সারোগেসি কেন্দ্রিক, যা তাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে আরও অনুপ্রাণিত করেছিল।
শারীরিক-মানসিক চ্যালেঞ্জ ও স্বস্তি
পুরো প্রক্রিয়াটি কৃতির জন্য সহজ ছিল না। হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণে হুটহাট মেজাজ খিটখিটে হওয়া বা শারীরিক-মানসিক অস্বস্তির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। তবে সব কষ্ট ছাপিয়ে এটি তাকে এক বড় মানসিক স্বস্তি দিয়েছে।
কৃতির মতে, সামর্থ্য থাকলে এটি একজন নারীর নিজের ভবিষ্যৎকে দেওয়া সবচেয়ে বড় উপহার। অবশ্য তিনি এটিও স্বীকার করেছেন যে, এই চিকিৎসা বেশ ব্যয়বহুল এবং সবার পক্ষে এই খরচ বহন করা সম্ভব নয়।
কৃতি একা নন, এর আগে বলিউড তারকা প্রিয়াঙ্কা চোপড়াও ৩০-এর কোঠার শুরুতে নিজের ডিম্বাণু সংরক্ষণ করেছিলেন। প্রিয়াঙ্কা এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, পেশায় চিকিৎসক তার মায়ের পরামর্শে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
এর ফলে কেরিয়ারের চূড়ায় পৌঁছানোর তাড়না বা সঠিক জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়ার অপেক্ষায় থাকার দিনগুলোতে সন্তান জন্মদানের বয়স নিয়ে তাঁকে কোনো বাড়তি উদ্বেগে ভুগতে হয়নি।
ব্যক্তিগত জীবনের এই আলোচনার পাশাপাশি কৃতি বর্তমানে তাঁর ‘ককটেল ২’ ছবির দারুণ সাফল্য উপভোগ করছেন। বিশ্বজুড়ে ছবিটির বক্স অফিস কালেকশন ইতিমধ্যেই ১৪০ কোটি রুপি ছাড়িয়ে গেছে।
তবে তার পরবর্তী নতুন প্রজেক্টের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি।