দেশের স্থবির হয়ে পড়া স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে সচল করতে যেসব সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেগুলোতে দ্রুততম সময়ে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা করছে সরকার। এই প্রক্রিয়ায় ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে নবনিযুক্ত ছয় সিটি প্রশাসকের যোগদান অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তিন সিটি
মন্ত্রী জানান, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, “ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে আমরা অগ্রাধিকার দিচ্ছি। এরপর পর্যায়ক্রমে দেশের বাকি সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলাগুলোতে ভোট হবে।” তবে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে ঠিক কতদিন লাগবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা না জানিয়ে তিনি একে একটি ‘চলমান প্রক্রিয়া’ হিসেবে অভিহিত করেন।
দলীয় প্রতীকে নির্বাচন: সিদ্ধান্ত সংসদে
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো দলীয় প্রতীকে হবে কি না, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মন্ত্রী জানান, আগামী ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। সেখানেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “এটি কোনো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংসদেই নির্ধারিত হবে নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে।”
রাজনৈতিক প্রশাসক নিয়োগের যৌক্তিকতা
সরকারি কর্মকর্তাদের পরিবর্তে কেন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, “রাজনৈতিক প্রশাসকরা সরাসরি জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত। জনদুর্ভোগ লাঘব এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ে তারা বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন বলেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
একই অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, অকার্যকর হয়ে পড়া স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে গতিশীল করতেই রাজনৈতিক প্রশাসকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তারা সফল হবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।