top1

ত্রয়োদশ সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হলেন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ

Published

on

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বর্তমান সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

অধিবেশনের শুরুতে সভাপতিত্ব করেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি জানান, স্পিকার পদে নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত সময়ে মাত্র একটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। একক প্রার্থী হওয়ায় এবং প্রস্তাবটি বিধি মোতাবেক হওয়ায় তিনি হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম ঘোষণা করেন।

সংসদীয় রীতি অনুযায়ী, স্পিকার হিসেবে মেজর (অব.) হাফিজের নাম প্রস্তাব করেন সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম। প্রস্তাবটি সমর্থন করেন সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম। এরপর তা কণ্ঠভোটে দেওয়া হলে স্পন্দিত ‘হ্যাঁ’ ধ্বনির মাধ্যমে প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। নবনির্বাচিত স্পিকার এই দায়িত্ব পালনে নিজের সম্মতি জ্ঞাপন করেন।

বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের অধিকারী হাফিজ

৮১ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিকের রয়েছে এক বর্ণাঢ্য সামরিক, ক্রীড়া ও রাজনৈতিক জীবন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য সাহসিকতার জন্য তিনি রাষ্ট্রের তৃতীয় সর্বোচ্চ বীরত্ব সূচক খেতাব ‘বীর বিক্রম’ লাভ করেন।

রাজনীতিতে আসার আগে তিনি একজন তুখোড় অ্যাথলেট ও ফুটবলার ছিলেন। পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ছাড়াও ১৯৬৪ সাল থেকে টানা তিনবার তিনি পূর্ব পাকিস্তানের ‘দ্রুততম মানব’ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

সংসদীয় ও রাজনৈতিক পথচলা

মেজর (অব.) হাফিজের বাবা ডাক্তার আজহার উদ্দিনও পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ছিলেন। বাবার উত্তরসূরি হিসেবে সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পর তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন।

 নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে তিনি প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীদের বিপুল ব্যবধানে পরাজিত করেন।

বিএনপিতে যোগদান: ১৯৯২ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। এরপর ১৯৯৬ সালের দুটি নির্বাচন এবং ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি জয়লাভ করেন। ২০২৪ পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবার তিনি সপ্তমবারের মতো সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন।

 খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় তিনি বিভিন্ন সময়ে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী, পাটমন্ত্রী এবং পানিসম্পদ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।

বর্তমানে তিনি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংসদীয় গণতন্ত্রের এই নতুন যাত্রায় বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক এখন সংসদের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Exit mobile version