রাজনীতিতে একে অপরকে দোষারোপ করার সংস্কৃতি পরিহার করে তরুণদের মেধা ও পরামর্শে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, “রাজনীতি করতে গিয়ে আমরা একে অপরকে দোষারোপ করি। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে দেশ গড়তে তরুণদের পরামর্শ নিতে চাই। শুধু দোষারোপ করে সমাধান আসবে না, প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা।”
রোববার সকালে চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু বে ভিউ হোটেলের মেজবান হলে ‘ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে তারেক রহমান বাংলাদেশের বর্তমান জনমিতিক সুবিধার (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) কথা উল্লেখ করে বলেন, “এই মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো আমাদের ইয়ুথ ফোর্স অনেক বেশি, যা আগামী ১৫-২০ বছর থাকবে। এই ওয়ার্ক ফোর্সের সুবিধা আমরা নিতে চাই। বাংলাদেশকে আগামী দিনে আমরা কীভাবে সাজাতে চাই, সেটাই আজ বড় বিষয়।”
দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, অনেক শিক্ষার্থী বিদেশে পড়তে গিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েন। তাদের সুবিধার্থে ক্ষমতায় গেলে ‘স্টুডেন্ট লোন’ বা শিক্ষা ঋণ চালু করার পরিকল্পনা করছে বিএনপি।
জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিবেশ রক্ষায় খাল খনন কর্মসূচির ওপর গুরুত্বারোপ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, “ক্ষমতায় গেলে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। এতে বৃষ্টির পানি জমে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা থেকে যেমন মুক্তি মিলবে, তেমনি ভূগর্ভস্থ পানির মজুতও বাড়বে।”
সুশাসনের ওপর জোর দিয়ে তারেক রহমান হুঁশিয়ারি দেন যে, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি রোধ করা না গেলে কোনো উন্নয়ন টেকসই হবে না। তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং দুর্নীতি রোধ করতে না পারলে কোনো পরিকল্পনাই সফল হবে না। সরকারের বার্তা যদি থাকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’, তবে এই অপরাধ অনেকখানিই কমে যাবে।”
রাজনৈতিক দলগুলোর দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা না করলে জনগণ সেই দলের পাশে থাকবে না। ভবিষ্যতে তরুণরা যখন দেশ পরিচালনার হাল ধরবেন, তারা কীভাবে বাংলাদেশকে দেখতে চান, তা শুনতেই এই বিশেষ আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।