top3

নাম পরিবর্তন ও অনুষদ বদলের দাবি, বিপক্ষে আরেক পক্ষের স্মারকলিপি

Published

on

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের নাম ও অনুষদ পরিবর্তন নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। এক পক্ষ বিভাগের নাম পরিবর্তন করে ‘কমিউনিকেশন, মিডিয়া অ্যান্ড ফিল্ম স্টাডিজ’ করার পাশাপাশি বিভাগটিকে কলা অনুষদ থেকে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে স্থানান্তরের দাবি জানিয়ে আন্দোলন করছে। অন্যদিকে, আরেক পক্ষ বর্তমান নাম ও অনুষদ বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) নামের পরিবর্তন চাওয়া শিক্ষার্থীরা দাবি বাস্তবায়নে বিভাগের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে অবস্থান নেয়। এ সময় তারা ‘আমাদের দাবি মানতে হবে’, ‘মিডিয়ার সঙ্গে কমিউনিকেশন যুক্ত চাই’, ‘কারিকুলাম গ্লোবাল, ফ্যাকাল্টি কেন লোকাল’-সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে শিক্ষার্থীরা বিভাগসহ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট স্মারকলিপি জমা দেন। পরে বিভাগের একাডেমিক কমিটির সুপারিশ ও একাডেমিক কাউন্সিলে উত্থাপনের পর সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি বিভাগের নাম পরিবর্তন এবং বিভাগটিকে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে স্থানান্তরের সুপারিশ করে। পরবর্তীতে ২৯ এপ্রিল ২০২৬ অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় বিভাগের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি উত্থাপিত হয়।

বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইনজামুল হক অভি ফকির বলেন, আমরা প্রায় ১৪ মাস ধরে বিভাগের নাম পরিবর্তন ও অনুষদ পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন করছি। কিন্তু এখনো বিভাগের নাম পরিবর্তন করা হয়নি। আমরা এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যদি বিভাগের নাম পরিবর্তন না হয়, তাহলে তীব্র থেকে তীব্রতর আন্দোলন গড়ে তুলব।

বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মহসিন হক শাহ বলেন, আমরা কমিউনিকেশনের একাধিক কোর্স করছি এবং পড়াশোনার একটি বড় অংশ কমিউনিকেশনভিত্তিক। কিন্তু বিভাগের নামের সঙ্গে কমিউনিকেশন না থাকায় চাকরির ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে পড়ছি। এছাড়া বাংলাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে রয়েছে। কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগটি কলা অনুষদের অন্তর্ভুক্ত। আমাদের একাডেমিক কাঠামো ও পড়াশোনার ধরন বিবেচনায় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে নেয়া প্রয়োজন।

অন্যদিকে এদিন নাম পরিবর্তনের বিপক্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা তাদের দাবির যৌক্তিকতা জানিয়ে উপাচার্য বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। স্মারকলিপিতে তারা উল্লেখ করেন, ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীরা ফিল্মিং ক্যারিয়ারে অনেক ভালো করছে। বিভাগটি শুরু থেকে ফিল্মকে প্রাধান্য দিয়েই কাজ করে আসছে। এ মুহূর্তে বিভাগের নাম পরিবর্তন হলে বিভাগটি তার স্বকীয়তা হারাবে। পাশাপাশি সাবেক শিক্ষার্থীরাও পরিচয়হীনতায় ভুগবে।

সেখানে আরও বলা হয়, বিভাগে ইতোমধ্যে ফিল্ম ও মিডিয়া সম্পর্কিত কোর্স কমিয়ে নতুনভাবে সাংবাদিকতার কোর্স যুক্ত করা হয়েছে, যা অনুচিত। বিভাগটি পারফর্মিং আর্টসের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় কলা অনুষদে এর অবস্থান। একে জোরপূর্বক নাম পরিবর্তন করে ভিন্ন অনুষদের অধীনে নেয়া হলে যেসব শিক্ষার্থী ফিল্ম পড়তে আগ্রহী, তাদের সঙ্গে অন্যায় করা হবে।

বিভাগটির ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর রানা বলেন, ফিল্ম ও গণযোগাযোগ দুটি আলাদা বিষয়। বিভাগে আমরা ভর্তি হয়েছি ফিল্ম নিয়ে বিশদ জ্ঞান অর্জনের জন্য। কিন্তু এখন যদি নাম পরিবর্তন করে ফিল্মকেই সবথেকে দুর্বল করে দেয়া হয়, তাহলে আমাদের পড়াশোনার উদ্দেশ্য সফল হবে না। বহুমুখী চাপে অনেক শিক্ষার্থী ফিল্মের পক্ষে থাকলেও বাধ্য হয়ে এই আন্দোলনে গিয়েছে।

এ বিষয়ে বিভাগটির সহকারী অধ্যাপক মনোজ কুমার প্রামাণিক বলেন, শিক্ষার্থীরা বিভাগের নাম পরিবর্তনের দাবি না তুলে সাংবাদিকতা বিষয়ে নতুন বিভাগ খোলার দাবি তুললে তা যৌক্তিক হতো। ফিল্ম বিষয়ে পড়ার জন্য সব জেনেই তারা ভর্তি হয়েছে। ইতোমধ্যে আমাদের শিক্ষার্থীরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাদের কাজের মাধ্যমে সুনাম কুড়াচ্ছে, যা আমাদের জন্য গর্বের। কিন্তু এখন এসব পরিবর্তন করে বিভাগকে ভিন্ন দিকে নেয়ার দাবিটি যৌক্তিক না।

এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, বিষয়টি আগামী সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দাবি যৌক্তিক প্রমাণিত হলে তা বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী ৩ অক্টোবর সিন্ডিকেটের সব সদস্য এ বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত জানাবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমার ব্যক্তিগতভাবে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়ার সুযোগ নেই। সিন্ডিকেটের ১৪ সদস্যের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারি না। তবে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর দাবিকে গুরুত্ব দেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Exit mobile version