top1

পাকিস্তানের পাশে যুক্তরাষ্ট্র, চাপে কি ক্ষমতা হারাবে তালেবান?

Published

on

যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানের তালেবান শাসকদের হামলার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের ‘আত্মরক্ষার অধিকার’-এর প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানিয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) একই দিনে ইসলামাবাদ ঘোষণা করে, সাম্প্রতিক সীমান্তসংঘাতের জেরে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে কার্যত ‘খোলা যুদ্ধ’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

গত সপ্তাহান্তে আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর বৃহস্পতিবার সীমান্তজুড়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু হলে উত্তেজনা দ্রুত বেড়ে যায়। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাওয়াজা মুহাম্মাদ আসিফ পরিস্থিতিকে ‘ওপেন ওয়ার’ বলে উল্লেখ করেন। উভয় পক্ষই ভারী হতাহতের দাবি করেছে। 

সর্বশেষ এই সংঘাত তালেবানদের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের পর তালেবানের পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। পাকিস্তানের কঠোর অবস্থান এবং ওয়াশিংটনের স্পষ্ট কূটনৈতিক সমর্থনের প্রেক্ষাপটে অনেকেই মনে করছেন, তালেবান তাদের ক্ষমতার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে—যা তাদের ক্ষমতার অবসানের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ তৈরি করছে। 

এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, ‘তালেবানের মতো বিশেষভাবে চিহ্নিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হামলার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের আত্মরক্ষার অধিকারকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে।’ মার্কিন কূটনীতিক এ্যালিসন হুকার জানান, তিনি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব আমনা বালোচের সঙ্গে কথা বলেছেন। 

যুক্তরাষ্ট্র তালেবানকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে এবং অভিযোগ করে যে তারা সন্ত্রাসবিরোধী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো আফগানিস্তানকে ভয়াবহ হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে।’ একই সঙ্গে হতাহতের ঘটনায় দুঃখও প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন।

পারমাণবিক অস্ত্রধারী এবং সামরিক সক্ষমতায় আফগানিস্তানের তুলনায় অনেক শক্তিশালী পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে আফগানিস্তান পাকিস্তানি তালেবান জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে। তবে কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Exit mobile version