বাংলাদেশ-পাকিস্তানের বিমানবাহিনী প্রধান
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিমানবাহিনী প্রধানদের মধ্যে ইসলামাবাদে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকে দুই দেশের বিমানবাহিনীর পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার পাশাপাশি আধুনিক যুদ্ধবিমান সংগ্রহের সম্ভাব্য বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।
পাকিস্তানের সামরিক জনসংযোগ সংস্থা আইএসপিআর জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধু-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক গুরুত্ব পায়।
আলোচনার একটি উল্লেখযোগ্য অংশজুড়ে ছিল জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান সংগ্রহের সম্ভাবনা। সফরকালে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধানকে আনুষ্ঠানিকভাবে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
আইএসপিআর জানায়, দুই বাহিনীর মধ্যে অপারেশনাল সমন্বয় ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, সক্ষমতা উন্নয়ন এবং এয়ারোস্পেস ও মহাকাশ খাতে যৌথ উদ্যোগের বিষয়েও মতবিনিময় হয়।
পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান তার বাংলাদেশি সমকক্ষকে বাহিনীর সাম্প্রতিক অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি প্রাথমিক থেকে উন্নত পর্যায়ের উড্ডয়ন প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত কোর্সে সহায়তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। এ ছাড়া সুপার মুশশাক প্রশিক্ষণ বিমান দ্রুত সরবরাহ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ার কথাও জানান।
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান পাকিস্তান বিমানবাহিনীর যুদ্ধ-অভিজ্ঞতা ও কার্যকর অপারেশনাল দক্ষতার প্রশংসা করেন। তিনি পুরনো বিমান বহরের রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে রাডার ব্যবস্থার সমন্বয়ে সহযোগিতা কামনা করেন।
সফরের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল পাকিস্তান বিমানবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শন করে। এর মধ্যে রয়েছে ন্যাশনাল আইএসআর ও ইন্টিগ্রেটেড এয়ার অপারেশনস সেন্টার, পিএএফ সাইবার কমান্ড এবং ন্যাশনাল অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি পার্ক।
আইএসপিআরের মতে, এই সফর দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে এবং ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও কৌশলগত অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন