ক্যাম্পাস

বাধ্যতামূলক ইসলামিক স্টাডিজ কোর্স পুনর্বিবেচনার দাবিতে ইবিতে মানববন্ধন

Published

on

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সকল শিক্ষার্থীর জন্য ‘ইসলাম শিক্ষা’ ও ‘বাংলাদেশ স্টাডিজ’ কোর্স বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতনী শিক্ষার্থীরা।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে ‘একাডেমিক স্বাধীনতা চাই, বাধ্যতামূলক কোর্স নয়’ শীর্ষক ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।

সনাতনী শিক্ষার্থীরা জানান, সকল শিক্ষার্থীর জন্য ‘ইসলাম শিক্ষা’ ও ‘বাংলাদেশ স্টাডিজ’ কোর্স বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, অনিশ্চয়তা ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ম, বর্ণ ও সংস্কৃতি নির্বিশেষে সকল শিক্ষার্থীর জন্য সমান অধিকার, মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত হওয়া উচিত। সেই প্রত্যাশা থেকেই তারা এ দাবিগুলো উত্থাপন করেছেন।

তারা আরও জানান, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নিজস্ব ধর্মীয় বিশ্বাস, মূল্যবোধ ও পরিচয়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ। এর আগে একই ইস্যুতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও পূজা উদযাপন পরিষদ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো সমাধান না হওয়ায় সাধারণ সনাতনী শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

মানববন্ধনে ব্যানারের মাধ্যমে তিনটি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো— ‘ইসলাম শিক্ষা’ ও ‘বাংলাদেশ স্টাডিজ’ কোর্স দুটিকে ঐচ্ছিক করা, শিক্ষার্থীদের নিজস্ব পছন্দ ও একাডেমিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করা।

তারা আশা প্রকাশ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে একটি ন্যায়সঙ্গত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের লক্ষ্যে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে তারা বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে উপাচার্যের সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান জানান, এর আগেও তারা আমার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে। এটি একাডেমিক বিষয় হওয়ায় সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত ছাড়া কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়। পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি আলোচনা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Exit mobile version