রাজশাহী প্রতিনিধি
“সিসা দূষণ বন্ধ করি, সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করি”— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজশাহীতে শিশুদের সিসা দূষণ থেকে সুরক্ষায় একটি জনসচেতনতামূলক র্যালি ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ‘পিওর আর্থ’-এর সহযোগিতায় স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ‘আর্থ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ইডিএফ)’ এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
বৃহস্পতিবার রাজশাহীর আলুপট্টি ও সাহেব বাজার এলাকায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় সহযোগী হিসেবে অংশ নেয় ইকোনমিক্স আর্থ সোসাইটি, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রজেক্ট আর্থকেয়ার।
কর্মসূচিতে বিশেষভাবে অংশগ্রহণ করেন প্রজেক্ট আর্থকেয়ারের কো-অর্ডিনেটর ও তাঁর দলের সদস্যরা। র্যালিতে তাঁরা সিসা দূষণের ভয়াবহতা ও এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে বক্তব্য রাখেন এবং দূষণমুক্ত পরিবেশ গড়তে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
স্বেচ্ছাসেবী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পরিবেশ ও সমাজকর্মীসহ প্রায় ৬০ জন মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো র্যালি জুড়ে “সিসা দূষণ বন্ধ হলে, বাড়বে শিশু বুদ্ধি-বলে” স্লোগানটি প্রতিধ্বনিত হয়।
বর্তমানে বিশ্বে সিসা দূষণে বাংলাদেশ তৃতীয় ঝুঁকিপূর্ণ দেশ উল্লেখ করে আয়োজকরা জানান, গবেষণায় দেখা গেছে দেশে প্রতি ১০ জন শিশুর মধ্যে প্রায় চারজন শিশুর রক্তে মাত্রাতিরিক্ত সিসার উপস্থিতি রয়েছে, যা তাদের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত করছে এবং বুদ্ধিমত্তা ও মনোযোগ কমিয়ে দিচ্ছে। দেয়ালের রং, খেলনা, রান্নার অ্যালুমিনিয়াম বাসনপত্র এবং সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারির অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত রিসাইক্লিং এই দূষণের প্রধান উৎস।
অনুষ্ঠানে পিওর আর্থ বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মিতালী দাশ এবং ইডিএফ-এর যুব বিষয়ক উপদেষ্টা ফাইয়ায আনাম স্বনন শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় ও সিসামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে যুবসমাজ ও সরকারি নজরদারির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
র্যালি ও আলোচনাসভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা নীতিনির্ধারকদের কাছে ৫ দফা সুপারিশ পেশ করেন।
সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে— সিসাকে ‘বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য’ ঘোষণা করে সমন্বিত জাতীয় কৌশল ও আইন প্রণয়ন করা; শিশু ও গর্ভবতী নারীদের রক্তে সিসার মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা ও ভোগ্যপণ্যের মান কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা; অবৈধ ব্যাটারি রিসাইক্লিং বন্ধ করে এই খাতকে ‘বর্ধিত উৎপাদক দায়িত্ব’ (ইপিআর)-এর আওতায় আনা; সিসা দূষিত এলাকা চিহ্নিত করে পরিবেশ পুনর্বাসন করা এবং সিসা দূষণ প্রতিরোধে দেশব্যাপী ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করা।