রাবি প্রতিনিধি
পরীক্ষার চার মাস পেরিয়ে গেলেও ফলাফল না পাওয়ায় অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আরবি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা। বিভাগের নোটিশ বোর্ডে ‘ডিপার্টমেন্ট অব অর্ডিন্যান্স, ফরমার আরবি ডিপার্টমেন্ট’ লেখা ব্যানার ঝুলিয়ে দিয়েছেন তারা। পাশাপাশি বিভাগের শ্রেণিকক্ষ, অফিস ও সেমিনার লাইব্রেরিতে তালা দিয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। এতে বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষাসহ সকল কার্যক্রম বন্ধ আছে।
গতকাল সোমবার সকাল ১১টা থেকে এই শাটডাউন কর্মসূচি শুরু হয়। যা আজ মঙ্গলবারও চলমান আছে। দাবি মেনে না নিলে তাদের কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছেন তারা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, এর আগেও গত ২৫ আগস্ট তারা ফল প্রকাশের দাবিতে বিভাগে তালা দিয়েছিলেন। পরে শিক্ষকদের মৌখিক আশ্বাসে তালা খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফল প্রকাশ না হওয়ায় তারা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন। ফল প্রকাশের দাবি নিয়ে বিভাগে গেলে কর্তৃপক্ষ বারবার ‘অর্ডিন্যান্সের’ দোহাইও দিয়ে কালক্ষেপণ করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রধান ফটকসহ সব কক্ষে তালা ঝুলছে। নোটিশ বোর্ডে সাঁটানো হয়েছে সেই ব্যঙ্গাত্মক ব্যানার। ব্যানারে লেখা, ‘ডিপার্টমেন্ট অব অর্ডিন্যান্স, ফরমার আরবি ডিপার্টমেন্ট’।
বিভাগের চতুর্থবর্ষের শিক্ষার্থী মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা যখনই পরিক্ষার ফলাফল প্রকাশের বিষয়ে জানতে চাই, সভাপতি বলে পরীক্ষা কমিটির সভাপতি জানে। পরীক্ষা কমিটির সভাপতির কাছে গেলে তিনি অর্ডিন্যান্সের দোহাই দেন। তারা আমাদের কোনো নিশ্চিত তথ্য দেন না। চারমাস ধরে আমরা এই সমস্যায় ভুগছি। সামনে আমাদের অনেকগুলো চাকরির পরীক্ষা আছে। বিভাগে বার বার কথা বলতে গেলে অর্ডিন্যান্সের অযুহাত দিয়ে আমাদের ফলাফল প্রকাশকে পেছানো হচ্ছে। তারই প্রতিবাদে এই নাম টাঙিয়ে দিয়েছি।
একই বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মাহাদী হাসান বলেন, ‘এর আগেও আমরা ফল প্রকাশের দাবিতে বিভাগে তালা দিয়েছিলেন। পরে শিক্ষকদের মৌখিক আশ্বাসে তালা খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফল প্রকাশ হয়নি। পরে আমরা নির্ধারিত সময়ের দুদিন পরে খোজ নিতে গেলে তারা জানায় কাজ চলমান আছে। কিন্তু এতদিন পার হলেও ফলাফল প্রকাশ হয়নি। তাই আমরা আবার কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হয়েছি। আমাদের পরীক্ষার ফলাফল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলমান থাকবে।’
বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চতুর্থ বর্ষের ‘বিএআর-৪১০৪: সাইন্স অফ ট্রানসলেশন’ কোর্সের নম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও আরবি বিভাগের অধ্যাপক ইফতিখারুল ইসলাম মাসঊদ জমা দেননি। কোর্সটির দায়িত্বে থাকা অন্য শিক্ষক অধ্যাপক নিজাম উদ্দীন তার অংশের নম্বর দিলেও অধ্যাপক মাসউদের কারণে ফলাফল আটকে আছে।
এ বিষয়ে পরীক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো.
বেলাল হোসেন বলেন, ‘একজন সম্মানিত শিক্ষকের কোর্সের নম্বর না পাওয়ায় আমরা ফলাফল দিতে পারছি না। তিনি আজকে নম্বর জমা দেওয়ার কথা দিয়েছেন। নম্বর পেলেই আমরা দ্রুত ফলাফল প্রকাশের ব্যবস্থা নেব।’
সার্বিক বিষয়ে জানতে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক জাহিদুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মোহা. ফরিদ উদ্দীন বলেন, ‘বিষয়টি আমরা জেনেছি। সকাল থেকে একটি মিটিংয়ে ব্যস্ত ছিলাম। এখন আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধান করবো।’