রাবি প্রতিনিধি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বিজয়-২৪ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল দলের জ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়দের বাদ দিয়ে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের খেলোয়াড় কোটায় সিট বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাদের মধ্যে দুজনই হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জামিরুল ইসলামের নিজ বিভাগ সমাজকর্মের শিক্ষার্থী। এ নিয়ে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলেছেন বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা। তবে প্রাধ্যক্ষের দাবি, হলের খেলাধুলার মান বাড়াতে ‘সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনা’ থেকেই নবীনদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
হল সূত্রে জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জামিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক নোটিশে খেলোয়াড় কোটায় চারজন শিক্ষার্থীকে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়। তাদের একজন ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের এবং অন্য তিনজন ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন। নবীন তিনজনের মধ্যে দুজন সমাজকর্ম ও একজন দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী।
প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জামিরুল ইসলাম সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষক হওয়ায় তার বিভাগের দুই নবীনকে খেলোয়াড় কোটায় সিট দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলেছেন বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে সিট বরাদ্দের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করা হয়। ২০২৬ সালের এপ্রিলের নীতিমালা অনুযায়ী, স্নাতকের দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ বর্ষ এবং স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থীরা আবাসিকতার জন্য আবেদন করতে পারেন। আসনের তুলনায় আবেদনকারী বেশি হলে একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমের সাফল্যও বিবেচনায় নেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় হয়েও সিট না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রিফাত হোসেন। তিনি বলেন, ‘ভাইভায় আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে খেলার কথা জানালে প্রাধ্যক্ষ শারীরিক শিক্ষা বিভাগ থেকে প্রত্যয়নপত্র আনতে বলেন। পরে আমি প্রত্যয়নপত্র নিয়ে গেলে জানানো হয়, সিট নেই। পরে সার্কুলার দিলে আবেদন করতে হবে।’
চতুর্থ বর্ষে এসেও আবাসিক সিট না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহ জামাল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা চতুর্থ বর্ষে এসেও সিট পাইনি। অথচ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা কতদিন নিজেদের খেলা প্রদর্শনের সুযোগ পেয়েছে যে তাঁদের খেলোয়াড় কোটায় সিট দেওয়া হলো? এখানে স্বজনপ্রীতির বিষয়টি স্পষ্ট।’
অভিযোগের বিষয়ে বিজয়-২৪ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জামিরুল ইসলাম বলেন, ‘ওরা হলে ভালো পারফরম্যান্স করছে। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের হল খেলাধুলায় পিছিয়ে আছে। চতুর্থ বর্ষ বা মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা পাঁচ-ছয় মাস পরই হল ছেড়ে চলে যায়। তাই সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনা করেই নবীনদের সিট দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা দীর্ঘদিন হলকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।’
বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের বাদ দিয়ে নবীনদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বৈষম্যের অভিযোগ অস্বীকার করেন প্রাধ্যক্ষ। তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো আবেদন তার কাছে আসেনি।