ক্যাম্পাস

১৭তম বিজেএসে সুপারিশ হয়েও চূড়ান্ত গেজেট থেকে বাদ পড়লেন মামুন, ন্যায্য বিচার দাবি

Published

on

ডেস্ক নিউজ 

১৭তম বাংলাদেশ জুডিশিয়ারি সার্ভিস কমিশন (বিজেএস) পরীক্ষায় সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও চূড়ান্ত গেজেটে বাদ পড়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ম ব্যাচের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মামুন হোসেন। এছাড়া চুড়ান্ত পর্যায়ে বাদ পড়েছেন মামুনসহ আরো ১৪ জন প্রার্থী। ভাইবাতে টানা ৪ বার অংশগ্রহণ করে পঞ্চমবার ১৭তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে (বিজেএস) সুপারিশপ্রাপ্ত সিভিল জজ পদে উত্তীর্ণ হন মামুন। তার রোল ২৩২০ এবং মেধাক্রম ৭৭। 

জানা যায়,২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে ১ হাজার নম্বরের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে ২৩ ফেব্রুয়ারি বিজেএসসি মোট ১০২ জনকে সুপারিশ করে। তবে গত ২৭ নভেম্বর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে কেবল ৮৮ জনকে সিভিল জজ (শিক্ষানবিশ) হিসেবে নিয়োগ দিয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়। বাকি ১৪ জন বাদ পড়েন।

এদিকে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) এর সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্যগত যোগ্যতা, পুলিশ ভেরিফিকেশন, একাডেমিক যাচাই এবং প্রশাসনিক কারণ এই চার ধাপের অতিরিক্ত যাচাই বাছাই শেষে কয়েকজন প্রার্থীকে গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তবে বাদ পড়া ১৪ জনের বিষয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও গেজেটভুক্ত না হওয়া ১৪ জন হচ্ছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তানসেনা হোসেন মনীষা, অনিক আহমেদ, মাহমুদুল ইসলাম মুন্না ও গগন পাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিশাত মনি, নাহিম হাসান, মো. রেজাউল ইসলাম ও সাজ্জাদুল হক। এছাড়াও রয়েছে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদিকুর রহমান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইমন সৈয়দ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুব্রত পোদ্দার এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হুমায়রা মেহনাজ।

নিয়োগপ্রত্যাশী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মামুন হোসেন বলেন, আমি বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন কর্তৃক বিজেএস পরীক্ষা টানা ৪ চার ভাইবাতে অংশগ্রহণ করে ১৭তম বিজেএস পরীক্ষায় ৭৭তম মেধাক্রমে সুপারিশপ্রাপ্ত হই। আমি স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ভেরিফিকেশনসহ সব কিছু যথাযথভাবে সম্পন্ন করেছি। আমার নামে কোনো মামলা নেই। পরিবারেও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই। তারপরও আমাকে গেজেটে রাখা হয়নি। কেন বাদ পড়লাম—তা জানি না। আমার পরিবার শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। স্বপ্নের চাকরিতে সকলের সাথে জয়েন করার যে আনন্দ ও গৌরব তা থেকে আমরা চিরদিনের জন্য বঞ্চিত হচ্ছি।

মেধাক্রম ৭৯-এর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইমন সৈয়দ বলেন, ‘আমার সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন। কোনো সময়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেই। কিন্তু গেজেটে নাম না দেখে আমার মন ভেঙে গেছে। আমার ৮৬ বছর বয়সী মা আমার দিকে তাকিয়ে ছিলেন। গেজেট না আসায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। দ্রুততম সময়ে পুনরায় গেজেটের দাবি জানাচ্ছি যাতে সকলের সাথে কাঙ্খিত সময়ে যোগদান করতে পারি। আমার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। তবুও অজ্ঞাত কারণে গেজেটে নাম নেই। এই অবিচারের দ্রুত সমাধান চাই। এর দায় কে নিবেন? আমি রিভ্যারিফিকেশন চাইনা। আমি বাকীদের সাথে ডিসেম্বর ১ তারিখ জয়েন করতে চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Exit mobile version