ঘুম ও ব্যথা নাশক ট্যাবলেট খেয়ে ভয়াবহ নেশার জগতে ঢুকে পড়ছে কুষ্টিয়ার অনেক শিক্ষার্থী ও তরুনরা

সারা বাংলা ডেস্ক : বাংলা অলটাইম নিউজ ডটকম, এস এম জামাল, কুষ্টিয়া থেকে : ঘুম ও ব্যথা নাশক ট্যাবলেট খেয়ে ভয়াবহ নেশার জগতে ঢুকে পড়ছে কুষ্টিয়ার তরুন এবং বিভিন্ন স্কুল কলেজের অনেক ছাত্রছাত্রীরা। নেশার এই জগতে ঢুকে তাদের শারীরিক সক্ষমতা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। তারা নিস্তেজ হয়ে পড়ছে। আর অভিভাবকরা চিকিৎসার জন্য ডাক্তারদের শরণাপন্ন হলেও নেশা থেকে তাদের সরাতে ব্যর্থ হচ্ছেন। প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রির হার বেড়ে যাওয়ায় ফার্মেসি মালিকদেরকেই দায়ী করছেন অভিবাবকরা। যদিওবা সম্প্রতি শহরের বেশ কয়েখটি দোকানে অভিযান চালিয়ে এর সত্যতা পেয়েছে। এবং প্রেসক্রিপশন ছাড়া এসব ওষধ বিক্রির অভিযোগে সেসব দোকানীদেরও জরিামানা গুনতে হয়েছে।

তবে শুধূমাত্র শহরে এমন অভিযান হলেও উপজেলা সদর কিংবা গ্রামাঞ্চলে এমন কোন অভিযানে নামেরনি প্রশাসন।

বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘিরে এসব নেশার ট্যাবলেট গ্রহণের নানা তথ্য পাওয়া গেছে।

সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা এসব তথ্য জানালেও আসক্ত ছাত্রছাত্রীরা তা অস্বীকার করেছেন। এ প্রসঙ্গে তারা বলেছেন নেশার জন্য নয়, লেখাপড়ার কারণে তাদের ঘুম আসে না। তাই ঘুমের জন্য এবং শারীরিক ক্লান্তি দুর করার জন্য তারা এমন সব ট্যাবলেট খেয়ে থাকেন। তবে অভিভাবকদের দাবি তাদের ছেলেমেয়েরা আসক্ত হয়ে পড়েছেন। কিন্তু তা জেনেও তার ওপর কঠোর আচরণ করতে পারছেন না তারা।

এর মধ্যে রয়েছে পেন্টাডল ৫০, ডার্মিকাম ৭.৫, ডিসোপেন ২, ট্যাপেন্টাডল ৫০।

ভুক্তভোগী অভিভাবকরা জানান, তারা এ বিষয়ে ডাক্তারের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছেন দীর্ঘদিন এসব ট্যাবলেট খেলে তাদের সন্তান মৃত্যুর দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে। ভুক্তভোগী অভিভাবকরা তাদের আদরের সন্তানদের রক্ষায় নানান পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন তবুও কোন কাজ হচ্ছেনা।

ছাত্রদের মধ্যে এই ট্যাবলেট গ্রহণের পরিমাণ অপেক্ষাকৃত কম লক্ষণীয়। বিশেষ করে যারা গ্রাম এলাকা থেকে কুষ্টিয়া এসে ভাড়া বাড়ি করে কিংবা মেসে অবস্থান করে লেখাপড়া করছেন তাদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি লক্ষণীয়।

তারা অভিভাবকদের কাছ থেকে নিয়মিতভাবে টাকা নিচ্ছেন। সেই টাকায় কিনছেন এসব ট্যাবলেট। রাতে ঘুম হয়না এমন যুক্তি দেখিয়ে বাবা মার চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা এসব ট্যাবলেট ব্যবহার করে নিজেদের শেষ করে দিচ্ছেন। এতে স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় অভিভাবকরা তাদের নিয়ে যাচ্ছেন ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার সব কিছু জেনে বুঝে ওষুধও দিচ্ছেন। একই সাথে এসব ট্যাবলেট ব্যবহার না করার পরামর্শ দিলেও তারা তা মানছেন না। অনেকে ডাক্তারের দেওয়া ওষুধও খাচ্ছেন না।

এদিকে, কুষ্টিয়া শহরের সব ফার্মেসিতে চিকিৎসকের কোনো প্রেসক্রিপশন ছাড়াই এসব ট্যাবলেট বেচাকেনা হচ্ছে। এতে ট্যাবলেট সহজলভ্য হওয়ায় ছেলেমেয়েরা তা গ্রহণ করছেন। অভিভাবকরা প্রেসক্রিপশন ছাড়া ট্যাবলেট বিক্রির ওপর সরকারের নিষেধাজ্ঞা দাবি করেছেন।

জানতে চাইলে কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. রওশনারা বেগম বলেন এসব ট্যাবলেট, ঘুম, ব্যথানাশক এবং শারীরিক উপশমের জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে তা তার জীবনের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here