শেষ হলো বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী ‘জামাই মেলা’

সারা বাংলা ডেস্ক : বাংলা অলটাইম নিউজ ডটকম, বগুড়া থেকে অর্পন মাহামূদ :-বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী জামাই মেলাতে গত বছর ১০০ কেজি ওজনের একটি বাঘাইড় মাছ উঠেছিল এবং দাম ১ লাখ ১০ হাজার টাকা দাম উঠলেও বিক্রেতার হাঁকা দাম ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় শেষ পর্যন্ত বিক্রি হয়েছিল । এবারের মেলাই আগত দর্শকদের চাওয়া টা আরেকটু বেশীই ছিল। কিন্তু এ মেলাতে সর্বচ্চ ৮০ কেজি ওজনের উঠেছিল। মাছ টির হাঁকা হহয়েছিল ৮০ হাজার টাকা। পরে মাছ টি কেটে ১ হাজার টাকা প্রতি কেজি হিসেবে বিক্রি করা হয়েছে। তবে ৫০-৬০ কেজি ওজনের বেশ কয়েক টি বাগাইড় মাছ এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিক্রির জন্য মেলায় রাখা হয়েছিল।

মেলায় শুধু মাছই নয় বড় বড় মাছ মিষ্টিও সাজিয়ে বসেছিল বিক্রেতারা। অন্যান্য মিষ্টির চেয়ে ৪ কেজি থেকে ৮ ওজনের মিষ্টি বেচাকেনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। ঐতিহ্যবাহী এই জামাই মেলা মাছ ও মিষ্টির জন্য বিখ্যাত হয়ে উঠা এ মেলায় বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের পদচারণায় মুখর ছিল সারাদিন।

বগুড়া সুবাদ বাজারের আব্দুল হাকিম, আবদুল জলিলসহ পাঁচ-ছয়জন মাছ ব্যবসায়ী জানান, যমুনা নদীর ৮০ কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছ কেটে বিক্রি করছেন হাজার টাকা কেজি দরে। আর ৪০-৫০ কেজি ওজনের মাছ গুলো কেটে বিক্রি হয়েছে হাজার টাকা কেজি দরে।

মেলায় বাগাইড় মাছ ছাড়াও ১৮ কেজি ওজনের বোয়াল মাছের দাম হাঁকা হয়েছে প্রতি কেজি ১৭০০ টাকা। ১৫ থেকে ১৮ কেজি ওজনের কাতলা মাছ ২২০০ থেকে ২৫০০ টাকা কেজি। ৮ থেকে ১০ কেজি ওজনের কাতলা মাছ ১৪০০ টাকা, ১০ কেজির ওপরে আইড় মাছ ১৩০০ থেকে ১৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া রুই, পাঙ্গাস ও অন্যান্য মাছ উঠেছিল। কেনা বেচাও হয়েছে ভালো জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

মেলায় মাছ কিনতে আসা কোলাকুপা গ্রামের আনিছুর মাস্টার জানান, তিনি সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে ১২ কেজি ওজনের একটি কাতল মাছ প্রতি কেজি ১০০০ টাকা দরে, এবং ১১ কেজি ওজনের সমুদ্রের মাছ কিনেছেন প্রতি কেজি ৭ শ টাকা দরে ।

বগুড়ার মহিষাবান ইউনিয়নের ইছামতির নদীর তীরে পোড়াদহ নামক এলাকায় পূর্বের স্থানের পাশেই বসেছিল প্রায় ৪শ বছরের পুরনো প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী এ সন্ন্যাসী মেলা, পরে পোড়াদহ মেলা থেকে বগুড়ার জামাই মেলা। এই জামাই মেলা এক দিনের হলেও এর উৎসব শুরু হয় এক সপ্তাহ আগে থেকেই। বুধবার জামাই মেলা এবং পরের দিন বউ মেলা এটা এখন বেশ জোরেসরেই প্রচার করা হয়।

এদিকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বিরোধে মণ্ডল পরিবারের জমির মালিকরা এবার এ মেলার নির্ধারিত স্থানে আগেভাগেই বোরো ধানের চারা রোপণ করেন। ফলে বহুল আলোচিত ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে’র নামে কেনা জমির পাশেই ভাটা এলাকায় এবার মেলা আয়োজন করে স্থানীয়রা।

মেলার উদ্যোক্তারা বলেন, জায়গাটি দেখার জন্য প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসছে। জায়গাটিতে এবার একদিনের জন্য মেলা আয়োজন করা হয়েছে। এ বছর সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পারলে প্রতি বছরই সেখানে মেলার আয়োজন করা হবে। তবে পোড়াদহের মেলা যেখানে বসতো তার অপর প্রান্তে অল্প দূরে এ মেলা বসেছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছরের মাঘ মাসের শেষ বুধবার আয়োজিত সন্ন্যাসী পূজা মেলা কালের বিবর্তনে হয়ে ওঠে পূর্ব-বগুড়াবাসীর মিলন মেলা। পোড়াদহ নামক স্থানে হয় বলে এ মেলার নাম হয়ে যায় পোড়াদহ মেলা। প্রায় দুই যুগ আগে থেকে এই মেলা পরিচিতি পাই জামাই মেলা হিসেবে। মেলা ঘিরে আশপাশে প্রায় ২০ গ্রামের মানুষ মেয়ে ও জামাইকে নিমন্ত্রণ দিয়ে আপ্যায়ন করে। এ কারণে স্থানীয়রা আবার এ মেলাকে এখন জামাই মেলা বলেন।

কথা হয় মেলার জন্য ১০ কেজি ওজনের মাছের আকৃতিতে মিষ্টি তৈরির কারিগর আব্দুল লতিফের সাথে। তিনি বলেন,এ মিষ্টির দাম চাওয়া হয়েছে ৪ হাজার টাকা। এছাড়া এক কেজি, দুই কেজি, ৩ কেজি, ৪ কেজি ওজনের মিষ্টিও মেলায় পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন নামে। ২০০ মণ মিষ্টি রয়েছে এ দোকানে। কেনা বেচাও ভাল হচ্ছে।

এ মেলায় মাছ, মিষ্টি, ফার্নিচার, বড়ই, পান সুপারি, তৈজসপত্র, খেলনা থাকলেও কালক্রমে মাছের জন্য বিখ্যাত হয়ে আসছে। মেলায় নাগরদোলা, চরকি, সার্কাসসহ শিশুদের জন্য অন্যান্য খেলা চলছে। সব মিলিয়ে গ্রামীণ মেলায় বসেছিল জামাই শ্বশুরের এক মিলন মেলা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here