চট্টগ্রাম নগর ও রাউজান এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক প্রকাশ্যে গুলি করে মানুষ হত্যা আতঙ্ক বাড়িয়েছে। গত এক বছরে এসব এলাকায় ১৬টি খুনের ঘটনা ঘটেছে, যার বেশির ভাগের সঙ্গে পুরোনো আন্ডারওয়ার্ল্ড গ্যাং ও তাদের সহযোগীদের জড়িত থাকার তথ্য মিলছে। কিছু রাজনৈতিক সহায়তাও এসব ঘটনার পেছনে কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
হত্যাকাণ্ডগুলোর ধরন প্রায় একই, ভুক্তভোগীকে আগে হুমকি, পরে সুযোগ বুঝে প্রকাশ্যে গুলি। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতেও সেই একই প্যাটার্ন দেখা গেছে।পুলিশ বলছে, ‘এসব খুনে জড়িতদের অনেকেই পেশাদার সন্ত্রাসী।’ হত্যা-অস্ত্র উদ্ধারে ধীরগতির কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।গত কয়েক মাসে জোড়া খুন, ছাত্রলীগকর্মী হত্যা, শিবির সংশ্লিষ্টদের টার্গেট কিলিং থেকে শুরু করে শীর্ষ সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবরকে প্রকাশ্যে গুলি করার মতো ঘটনাগুলোর পেছনে পুরোনো গ্যাংস্টার সাজ্জাদ আলী খান, হাবিব খান ও তাদের অনুসারীদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে।
ছোট সাজ্জাদ, রায়হানসহ কয়েকজন গ্রেপ্তার হলেও অনেকেই এখনো বাইরে থেকে একের পর এক খুনের পরিকল্পনা করছে।রাউজানে রাজনৈতিক কারণে সংঘটিত ১২টি হত্যাকাণ্ডের বেশির ভাগেই বর্তমানে শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের নাম উঠে এসেছে। ছোট সাজ্জাদ জেলে যাওয়ার পর তার নিয়ন্ত্রণে থাকা গোষ্ঠীর অস্ত্রভান্ডারও এখন রায়হানের হাতে।হত্যার আগে হুমকি দিয়ে সময় বেঁধে দেওয়া, এই পদ্ধতিকে সাম্প্রতিক সব হত্যাকাণ্ডের অভিন্ন বৈশিষ্ট্য বলছে পুলিশ। আলমগীর হোসেন হত্যার পর তার পুরোনো হুমকির ভিডিও ভাইরাল হওয়াও সে তথ্যই নিশ্চিত করে।
এদিকে পুলিশ জানায়, অস্ত্র উদ্ধারের অভিযান চলছে; এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি এলজি, রিভলবার, রাইফেল, বিদেশি পিস্তলসহ নানা অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কোন অস্ত্র কোন হত্যায় ব্যবহৃত হয়েছে, তা তদন্ত শেষ না হলে নিশ্চিত বলা যাবে না।