তথ্য ও প্রযুক্তি

এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ৪ হাজার ৮০০ কর্মী ছাঁটাই করবে মাইক্রোসফট

Published

on

বিশ্বের অন্যতম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট প্রায় ৪ হাজার ৮০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোম্পানির মোট জনবলের প্রায় ২ দশমিক ১ শতাংশ এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়বে। সোমবার (৬ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

মাইক্রোসফট জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরও দক্ষ ও কার্যকর করতে চলমান পুনর্গঠনের অংশ হিসেবেই এই কর্মীসংকোচনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে এআই অবকাঠামো উন্নয়নে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করছে এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রমে এআইয়ের ব্যবহারও দ্রুত সম্প্রসারণ করছে।

বর্তমানে বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতে এআইকে কেন্দ্র করে বিনিয়োগের প্রতিযোগিতা তীব্র হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছর এই খাতে মোট বিনিয়োগ ৭০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। ফলে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে একদিকে উচ্চ ব্যয় সামলাতে, অন্যদিকে লাভজনকতা ধরে রাখতে বাড়তি চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছর অ্যামাজন ও মেটাও হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে।

ট্রাম্পের অনুরোধে বালোগানের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল ফিফাট্রাম্পের অনুরোধে বালোগানের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল ফিফা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে শেয়ারবাজারে দুর্বল অবস্থানের পর মাইক্রোসফট নতুন এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারের মূল্য প্রায় ২৩ শতাংশ কমেছে, যা ২০২২ সালের পর বছরের প্রথমার্ধে সবচেয়ে দুর্বল পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এর আগে চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত প্রায় ৯ হাজার কর্মী, অর্থাৎ মোট জনবলের প্রায় ৭ শতাংশকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছিল মাইক্রোসফট। নতুন অর্থবছরের বাজেট ও ব্যয় পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার সময় প্রতিষ্ঠানটি জুন মাসে কর্মী পুনর্বিন্যাস বা ছাঁটাইয়ের পদক্ষেপ নিয়ে থাকে।

এদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তারের ফলে মাইক্রোসফটের ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবসায় ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও, এআই সেবা পরিচালনার জন্য বিপুল সংখ্যক ডেটা সেন্টার নির্মাণে বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন হচ্ছে। এতে কোম্পানির নগদ অর্থপ্রবাহের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে। এআইনির্ভর প্রযুক্তির প্রসারের কারণে সফটওয়্যার শিল্পে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হচ্ছে। পাশাপাশি ডেটা সেন্টারের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে মেমরি চিপের দাম বেড়ে যাওয়ায় মাইক্রোসফট তাদের এক্সবক্স গেমিং কনসোলের মূল্যও বাড়িয়েছে।

সূত্র : এনডিটিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Exit mobile version