সর্বশেষ

এবার নওগাঁয় জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষ, আহত ১০

Published

on

নওগাঁয় নির্বাচনি প্রচারণাকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

নওগাঁ সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের মাখনা কোমলগোটা গ্রামে মঙ্গলবার বিকালে  এ ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে জামায়াতের চারজন এবং বিএনপির একজন কর্মী নওগাঁ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকিরা স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

হাসপাতালে ভর্তি জামায়াত কর্মীরা হলেন— হাসাইগাড়ী ইউনিয়নের কাটখইড় গ্রামের মো. হাসান প্রামানিক (৩৮), একই এলাকার জাহিদ হাসান (২৫), হাসাইগাড়ী গ্রামের মো. মোস্তাফিজুর রহমান (৫৮) এবং চকরামপুর গ্রামের রুস্তম আলী (৪০)। আহত বিএনপি কর্মীর নাম রাকিব হাসান (২০), তার বাড়ি গোপাই গ্রাম, হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়ন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নওগাঁ-৫ (সদর) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আ স ম সায়েম নির্বাচনী প্রচারণা শেষে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মাখনা কোমলগোটা গ্রামে অবস্থান করছিলেন। এ সময় গোপাই গ্রামের কয়েকজন বিএনপি কর্মী সেখানে গিয়ে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করতে শুরু করেন। ভিডিও ধারণে বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা কয়েকজন জামায়াত কর্মীকে ঘরবন্দী করে রাখেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন।

আহত বিএনপি কর্মী রাকিব হাসান বলেন, “আমরা রান্নার ভিডিও করতে গেলে জামায়াতের লোকজন বাধা দেয়। পরে তাদের লোকজন দলবদ্ধভাবে আমাদের ওপর হামলা চালায়”।

অন্যদিকে আহত জামায়াত কর্মী হাসান প্রামানিক অভিযোগ করে বলেন, “আমরা বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। এ সময় কয়েকজন ভিডিও ধারণ করে পরিবেশ উত্তপ্ত করে। পরে পুলিশ আসার পর বিএনপির লোকজন পুলিশের লাঠি কেড়ে নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়”।

নওগাঁ সদর উপজেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিম বলেন, “প্রার্থী সায়েম ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিএনপির লোকজন অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমাদের অন্তত আটজন কর্মী আহত হয়েছেন”।

অভিযোগ অস্বীকার করে নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু বলেন, “জামায়াতের লোকজনই প্রথমে আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা করে এবং মোবাইল ভাঙচুর করে। আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা”।

এ বিষয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়ামুল হক বলেন, “পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে, তা ভিত্তিহীন। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Exit mobile version