top1

কওমি শিক্ষার্থীদের বিরোধিতায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনী স্থগিত

Published

on

সংস্কৃতির রাজধানী হিসেবে পরিচিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এর নির্ধারিত প্রদর্শনী শেষ পর্যন্ত হচ্ছে না। কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বিরোধিতা, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রত্যাহার এবং প্রশাসনের অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি’।

শুক্রবার (২৯ মে) রাতে প্রদর্শনী স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে আয়োজক সংগঠন ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি’।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে শনিবার ৩০ মে বিকেল ৩টায় জেলা শহরের অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে আয়োজন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিরোধিতা শুরু হলে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ঘোষণায় বলা হয়, বিদ্যালয়ের কক্ষ ব্যবহারের অনুমতি নেওয়া হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণেও নির্ধারিত প্রদর্শনী আয়োজন সম্ভব হচ্ছে না। তবে ভবিষ্যতে নতুন ভেন্যু নির্ধারণ করে প্রদর্শনীর নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে বলেও জানানো হয়।

আয়োজক সংগঠনের সদস্য ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী তওজা খন্দকার বলেন, ‘২৫ মে পরিচালক তানিম নূরের সঙ্গে আলোচনা করে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনের অনুমতি নেওয়া হয়। পরে অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিক সম্মতিও পাওয়া যায়। কিন্তু হঠাৎ করেই কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রদর্শনীর বিরুদ্ধে প্রচারণা শুরু করলে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে।’

ঘটনার বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতা হাফেজ নাসরুল্লাহ মুয়াজ নিজের ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ‘আলেম-ওলামার শহর’ এবং শহরের ধর্মীয় ও সামাজিক পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ হওয়া উচিত। পোস্টে তিনি প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপও কামনা করেন।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হেফাজতে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আলী আজম বলেন, ‘বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পরে মন্তব্য করবেন।’

তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিনেমা প্রদর্শনীর অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসাম্মৎ সাবিনা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, ‘বিদ্যালয়ের কয়েকজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী তার সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তিনি কোনো অনুমতি দেননি।’ তার ভাষ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিনেমা প্রদর্শনের প্রশ্নই ওঠে না।

উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যেও চলচ্চিত্র প্রদর্শনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির উপদেষ্টা ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল আজবীন। তিনি জানান, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Exit mobile version