বাগেরহাটে উদ্ধার হওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী ও ৯ মাস বয়সী শিশু সন্তানের মরদেহ জানাজা শেষে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে।
এর আগে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে স্বল্প সময়ের জন্য স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পান কারাবন্দী সাদ্দাম। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে ২৪ জানুয়ারি রাত ১১টার দিকে জানাজা শেষে কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী (২২) ও তার শিশু সন্তান নাজিমকে পাশাপাশি দাফন করা হয়।
এর আগে ২৩ জানুয়ারি দুপুরে সাবেকডাঙ্গা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই স্থান থেকে তার ৯ মাস বয়সী শিশু সন্তান নাজিমের মরদেহও উদ্ধার করা হয়।
নিহত নারীর স্বামী জুয়েল হাসান সাদ্দাম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার সভাপতি। তিনি বর্তমানে একাধিক মামলায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
স্বজনদের আবেদনের পরও প্যারোলে সাদ্দামের মুক্তির অনুমতি মেলেনি। তবে ২৪ জানুয়ারি কারা কর্তৃপক্ষ কয়েকজন নিকট আত্মীয়ের উপস্থিতিতে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নিহতদের মরদেহ কারাগারের ভেতরে নেওয়ার অনুমতি দেয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে দুটি মাইক্রোবাসে করে ১২ থেকে ১৫ জন আত্মীয়স্বজন মরদেহ নিয়ে কারাগারে পৌঁছান। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করে এবং অল্প সময় পর আবার বাইরে বের করে দেওয়া হয়।
কারাফটকের সামনে থেকেই স্ত্রী ও সন্তানকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পান সাদ্দাম। প্রায় পাঁচ মিনিটের মতো সময় তিনি স্ত্রী ও সন্তানের সামনে থাকতে পেরেছিলেন বলে স্বজনেরা জানান।
পুলিশ ও নিহতের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মানসিক হতাশা থেকে সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন স্বর্ণালী। পুলিশ জানায়, তাকে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং শিশুটির মরদেহ ঘরের মেঝে থেকে উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন সাদ্দাম। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন মামলায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন।