top1

কাসেম সোলাইমানির ভাস্কর্য গুঁড়িয়ে দিল ইরানিরা

Published

on

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। বুধবার এ বিক্ষোভ ১১তম দিনে গড়িয়েছে। এতে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দেশটির কুদস ফোর্সের সাবেক প্রধান ও অন্যতম প্রভাবশালী সামরিক নেতা কাসেম সোলাইমানির মূর্তিতে হামলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০৮ জানুয়ারি) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ঘনিষ্ঠ আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লোরদেগানে সশস্ত্র ব্যক্তিদের গুলিতে দুই পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর উত্তেজনাপূর্ণ মুখোমুখি অবস্থান দেখা গেছে। ভিডিওতে গুলির শব্দও শোনা যায়। অন্য কয়েকটি অঞ্চলের ফুটেজে দেখা যায়, নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ও টিয়ার গ্যাস ছুড়ছে, আর বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ পাথর নিক্ষেপ করছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, ইরানের সব ৩১টি প্রদেশের ১১১টি শহর ও জনপদে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সংস্থাটির তথ্যমতে, এ পর্যন্ত অন্তত ৩৪ জন বিক্ষোভকারী এবং চারজন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি প্রায় ২ হাজার ২০০ বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিবিসি পার্সিয়ান ২১ জন নিহতের পরিচয় ও মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সহিংসতায় পাঁচজন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন। গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানে দোকানিরা রাস্তায় নামার মধ্য দিয়ে এই বিক্ষোভের সূচনা হয়। খোলা বাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের বড় ধরনের দরপতনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফার্স প্রদেশের কায়েমিয়েহ শহরে বিক্ষোভকারীরা কুদস ফোর্সের সাবেক প্রধান ও ইরানের অন্যতম প্রভাবশালী সামরিক নেতা কাসেম সোলাইমানির একটি মূর্তি ভেঙে ফেলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ পেয়েছে। সোলেইমানি ২০২০ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের এক বিমান হামলায় নিহত হন।

গত এক বছরে রিয়ালের মূল্য ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, সরকারি অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে ইরানের অর্থনীতি মারাত্মক চাপে পড়েছে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও বিক্ষোভে যোগ দেন এবং আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য শহরে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Exit mobile version