top1

কোভিড প্রকল্পে দুর্নীতি : সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে ৬ মামলার সুপারিশ

Published

on

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীন কোভিড-১৯ সংক্রান্ত প্রকল্পে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ছয়টি পৃথক মামলা দায়েরের সুপারিশ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান দল। এতে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও একাধিক ঠিকাদারসহ মোট ১৩ জনকে আসামি করার সুপারিশ করা হয়েছে। দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়, কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড পেন্ডামিক প্রিপারেডেনস্ প্রকল্পের বিভিন্ন প্যাকেজের আওতায় মালামাল ক্রয় ও সেবা গ্রহণে অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ১২০বি ও ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রথম মামলায় সুরক্ষা সামগ্রী (KN95, N95 মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস) ক্রয়ের প্যাকেজে ৩ কোটি ৪৭ লাখ ৯৯ হাজার ১৫০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলায় আসামি করা হয়েছে প্রকল্প পরিচালক ডা. ইকবাল কবীর, ডা. তাহমিনা জোহরা, ADG (Plan & Dev.), অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা, জাহিদ মালেক, সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী, কাজী শামীমুজ্জামান, Proprietor, jadid automobiles, ডা. মো. শরীফুল হাসান, সহকারী পরিচালক (প্লানিং) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ডা. মো. আনোয়ার সাদাত, ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার (কো অর্ডিনেশন), প্লানিং, মনিটরিং অ্যান্ড রিসার্চ কর্মসূচি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং ডা. অনির্বান সরকার, মেডিকেল অফিসার (প্লানিং), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঢাকা।

দ্বিতীয় মামলায় হাসপাতালের বৈদ্যুতিক বেড ক্রয়ে অনিয়মের মাধ্যমে ১ কোটি ৪৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এই মামলায় আসামি হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে প্রকল্প পরিচালক ইকবাল কবির, ডা. তাহমিনা জোহরা, অবসরপ্রাপ্ত, এডিজি (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন), মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, Proprietor, মেসার্স INSHA TRADE CORPORATION. ডা. মো. শরীফুল হাসান, সহকারী পরিচালক (প্লানিং) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ডা. মোহা. আনোয়ার সাদাত, ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার (কো অর্ডিনেশন), প্লানিং, মনিটরিং অ্যান্ড রিসার্চ কর্মসূচি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং ডা. অনির্বান সরকার, মেডিকেল অফিসার (প্লানিং), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, তৃতীয় মামলায় KN95 মাস্ক ক্রয়ের ক্ষেত্রে ৯৩ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে। এই মামলায় আসামি করা হয়েছে প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. ইকবাল কবীর, ডা. তাহমিনা জোহরা, অতিরিক্ত মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা, মহাপরিচালক (দায়িত্বে), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, জাহিদ মালেক, সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী, মো. সাইফুর রহমান, Proprietor, SRS DESIGN & FASHIN LTD, ডা. মো. শরীফুল হাসান, সহকারী পরিচালক(প্লানিং) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঢাকা, ডা. মোহা. আনোয়ার সাদাত, ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার (কো অর্ডিনেশন), প্লানিং, মনিটরিং অ্যান্ড রিসার্চ কর্মসূচি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং ডা. অনির্বান সরকার, মেডিকেল অফিসার (প্লানিং), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

চতুর্থ মামলায় জনসচেতনতা বিষয়ক টিভিসি প্রচার না করেও বিল দেখিয়ে ৬২ লাখ ৭৩ হাজার ৪৭০ টাকা অতিরিক্ত উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। এই মামলায় আসামি করা হয়েছে প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. ইকবাল কবীর, ডা. তাহমিনা জোহরা, অতিরিক্ত মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা, মহাপরিচালক (দায়িত্বে), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

পঞ্চম মামলায় চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়ের ক্ষেত্রে ২ কোটি ১৬ লাখ ৯৭ হাজার ৬১৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলায় আসামি হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. ইকবাল কবীর, ডা. তাহমিনা জোহরা, অতিরিক্ত মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা, মহাপরিচালক (দায়িত্ব) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মো. মোস্তফা মনোয়ার, ম্যানেজিং পার্টনার, সিম করপোরেশন, ডা. মো. শরীফুল হাসান, সহকারী পরিচালক (প্লানিং) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ডা. মোহা. আনোয়ার সাদাত, ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার (কো অর্ডিনেশন), প্লানিং, মনিটরিং অ্যান্ড রিসার্চ কর্মসূচি, ডা. অনির্বান সরকার, মেডিকেল অফিসার (প্লানিং), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ষষ্ঠ মামলায় করোনা অ্যাপ ও ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন সংক্রান্ত সেবা ক্রয়ে ৩ কোটি ৩২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা অতিরিক্ত পরিশোধের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলায় আসামি হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. ইকবাল কবীর, ডা. তাহমিনা জোহরা, অতিরিক্ত মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা, মহাপরিচালক (দায়িত্বে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, রইসুল কবির, Proprietor, BRAIN STATION 23 LTD, মো. মোস্তফা মনোয়ার, ম্যানেজিং পার্টনার, সিম করপোরেশন।

অনুসন্ধান টিম তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা ও যোগসাজশের মাধ্যমে নির্ধারিত প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করে এসব অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। সূত্র জানায়, অনুসন্ধান টিমের দাখিল করা প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে ছয়টি পৃথক মামলা দায়েরের জন্য কমিশনের অনুমোদনের উদ্দেশ্যে নথি উপস্থাপন করা হয়েছে। দুদকের পরবর্তী কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে এই মামলাগুলো করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Exit mobile version