top1

জনগণের ঠেলায় পড়ে একটি দল হ্যাঁ ভোটের পক্ষে কথা বলছে: জামায়াত আমীর

Published

on

জনগণের ঠেলায় পড়ে এখন একটি দল হ্যাঁ ভোটের পক্ষে কথা বলছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউস ময়দানে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

যারা দেশের টাকা বিদেশে পাচার করেছে, তাদের ঘুম হারাম করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, জনগণের সম্পদ লুট করে কেউ পার পাবে না। গত সময়ে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার হয়েছে। এই অর্থ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো আত্মীয়তা বা প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া হবে না। শুধু অর্থই নয়, অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদেরও দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করা হবে।

জামায়াত আমির বলেন, ৭৭ বছরের পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে মানুষ মুক্তি চায়। দেশের মানুষ আর সেই পুরোনো রাজনীতি চায় না—এবার তারা পরিবর্তন চায়। এবারের নির্বাচন হবে জনমানুষের নির্বাচন।

রাষ্ট্র গঠনে নারী ও পুরুষকে সমান সুযোগ দেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১১ দল ক্ষমতায় গেলে দেশে মা-বোনেরা নিরাপদ থাকবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। মায়েদের গায়ে হাত দেওয়া যাবে না। এই দেশের মায়ের সন্তানরা জেগে আছে। প্রয়োজনে জীবন দেওয়া হবে, কিন্তু মায়ের সম্মানে আঘাত সহ্য করা হবে না। সবার আগে নারীদের সম্মান প্রতিষ্ঠায় কাজ শুরু হবে। প্রতিটি বিভাগীয় শহরকে স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাতারে নেওয়া হবে। শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। বেকাররা ভাতা নয়, কাজ চায়। তাদের কর্মমুখী করে গড়ে তোলা হবে। রাষ্ট্র কাজের সুযোগ তৈরি করবে, ভিক্ষানির্ভর ব্যবস্থা নয়।

তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচন সাধারণ কোনো নির্বাচন নয়; এটি দেশ গড়ার নির্বাচন। জনগণের প্রবল চাপেই পরিবর্তনের ঢেউ উঠেছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন ও আন্দোলনে জুলাই যোদ্ধারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান স্পষ্ট করেছে।

কৃষি খাতে অতীতের দমননীতির সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, যারা ন্যায্য সারের দাবিতে গুলি চালিয়েছে, তারাই এখন ফার্মার্স কার্ডের কথা বলছে। একই সঙ্গে তারা বেকার ভাতা ও ফ্যামিলি কার্ডের নামে জনগণকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নিজের বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, কথা পছন্দ না হলে তা বাদ দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু যা বলা হয়েছে সেটিই সঠিকভাবে প্রচার করা উচিত।

জনসভায় অংশ নিতে ডা. শফিকুর রহমান প্রথমে ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ হয়ে ময়মনসিংহে আসেন। পরে সার্কিট হাউস মাঠে পৌঁছালে তাকে বিপুল নেতাকর্মী ও সমর্থকরা স্বাগত জানান। এ সময় ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Exit mobile version