গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে সাবেক ও বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রহকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই তীব্র বিরোধিতা দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে, এ বিষয়ে ৮৬ শতাংশ আমেরিকান নাগরিক সরাসরি বিরোধী অবস্থান নিয়েছেন।
সিবিএস নিউজ পরিচালিত ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, রাজনৈতিক বিভাজন থাকা সত্ত্বেও গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রশ্নে মার্কিন জনমতের মধ্যে বিরল ঐকমত্য লক্ষ্য করা গেছে। রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও এই অনীহা স্পষ্ট। জরিপে দেখা যায়, দলটির ৭০ শতাংশ ভোটার যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড দখলের সম্ভাব্য উদ্যোগের বিপক্ষে মত দিয়েছেন। যদিও রিপাবলিকানদের প্রায় ৩০ শতাংশ এ লক্ষ্যে সামরিক শক্তি ব্যবহারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
এদিকে ট্রাম্পের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ভ্যান উইয়েল ডাচ টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন। গ্রিনল্যান্ড বিক্রিতে সম্মত না হলে ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকিকে তিনি সরাসরি ‘ব্ল্যাকমেইলিং’ বলে মন্তব্য করেন। তার মতে, এমন পদক্ষেপ ন্যাটো জোট কিংবা গ্রিনল্যান্ড—কোনো পক্ষের জন্যই উপকারী নয় এবং এটি পুরোপুরি অপ্রয়োজনীয়।
এর আগে শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ঘোষণা দেন, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ড ও গ্রেট ব্রিটেনের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করা হবে।
মূলত গ্রিনল্যান্ডে ন্যাটোর একটি সামরিক মহড়ায় অংশ নিতে এসব দেশ তাদের কর্মীদের পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতেই এই শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়।