তীব্র শীত ও ভয়াবহ তুষারঝড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রেকর্ড পরিমাণ তুষারপাত, বিদ্যুৎ–বিচ্ছিন্নতা ও ফ্লাইট বাতিলের পাশাপাশি এই দুর্যোগে দেশজুড়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৮ জন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২৫টি অঙ্গরাজ্যে জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা।
শীতের প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর–পূর্বাঞ্চলের নিউইয়র্ক ও ম্যাসাচুসেটস থেকে শুরু করে দক্ষিণের টেক্সাস ও নর্থ ক্যারোলাইনা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায়। এসব অঞ্চলে কোথাও কোথাও ১৮ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষারপাত হয়েছে। তাপমাত্রা নেমে গেছে মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। তুষারঝড়ের সরাসরি প্রভাব পড়েছে প্রায় ১১ কোটি ৮০ লাখ মানুষের ওপর। সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে ১৫ কোটির বেশি মানুষকে।
দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে। সেখানে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল শহরে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেছেন। এ ছাড়া নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি জরুরি সহায়তার প্রয়োজন হলে বাসিন্দাদের যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন। টেনেসি, লুইজিয়ানা, টেক্সাস, ম্যাসাচুসেটস ও কানসাস থেকেও মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
তুষারঝড়ের প্রভাবে গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ১১ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। উড়োজাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ার ডটকম জানিয়েছে, সোমবার এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে টেক্সাস থেকে ভার্জিনিয়া পর্যন্ত স্থানীয় সময় সোমবার ভোর চারটা পর্যন্ত ৮ লাখ ২০ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎ–বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তুষারঝড়ের মূল বলয় উত্তর–পূর্বাঞ্চল থেকে আটলান্টিক মহাসাগরের দিকে সরে যাওয়ার কথা ছিল। তবে একই সময়ে আর্কটিক অঞ্চল থেকে নতুন করে ঠান্ডা বায়ু প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে উত্তর–পূর্বাঞ্চলে আরও ভারী তুষারপাত ও বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে তীব্র শীত আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।