রাজনীতি

দুঃখ প্রকাশের পরও জামায়াত আমিরের পুরোনো বক্তব্যকে নতুন করে রাজনৈতিক অস্ত্র বানানোর অভিযোগ

Published

on

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের একটি পুরোনো বক্তব্য সাম্প্রতিক সময়ে পুনরায় ভাইরাল করে আলোচনার ঝড় তোলা হয়েছে, যা অনেকের কাছে উদ্দেশ্যমূলক রাজনৈতিক প্রচেষ্টা বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

গত বছরের ৩০ এপ্রিল নারী বিষয়ক কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখিত বৈবাহিক ধর্ষণের প্রসঙ্গ নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “রেইপ তো রেইপই। রেইপ তো দুইটা অসৎ নারী-পুরুষ যখন একত্রিত হয় বিবাহবহির্ভূত পন্থায় সেটার নাম রেইপ হবে।”

বক্তব্যের ভুল শব্দচয়ন বুঝতে পেরে  পরদিন ১ মে তিনি এ নিয়ে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বক্তব্যের সময় ধর্ষণ নিয়ে অসাবধানতাবশত ভুল শব্দচয়ন হয়েছে, যা অনিচ্ছাকৃত। একই সঙ্গে তিনি ব্যাখ্যা করেন, ধর্ষণ সংক্রান্ত বিষয়টি তিনি বিবাহবহির্ভূত জোরপূর্বক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে উল্লেখ করেছিলেন এবং বৈবাহিক সম্পর্কের ভেতরে সংঘটিত অন্যায় অবশ্যই বিচারযোগ্য হওয়া উচিত।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে ওই বক্তব্যের একটি অংশ সামাজিক মাধ্যমে পুনরায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যেখানে তার দুঃখ প্রকাশ ও পরবর্তী ব্যাখ্যার বিষয়টিকে বেমালুম আড়াল করা হয়েছে । এতে বিএনপির অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের পাশাপাশি জামায়াতবিরোধী অবস্থানে থাকা বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠী সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। আলোচনায় নেত্র নিউজের নির্বাহী সম্পাদক নাজমুল আহসানের সম্পৃক্ততার কথাও উঠে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কোনো ব্যক্তি প্রকাশ্যে নিজের বক্তব্য সংশোধন করে দুঃখ প্রকাশ করার পরও সেই বক্তব্যকে পুনরায় রাজনৈতিক আক্রমণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা গণতান্ত্রিক বিতর্কের চেয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকেই বেশি ইঙ্গিত করে। এতে বাস্তব সমস্যার সমাধানের পরিবর্তে সমাজে বিভাজন ও মেরুকরণ আরও গভীর হয়।

পুরোনো বক্তব্যকে নতুন বিতর্কে পরিণত করার এই প্রবণতা শুধু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রশ্ন নয়, বরং সমাজে ক্ষমা, সংশোধন এবং দায়িত্বশীল বক্তব্যের মূল্য কতটা—সে প্রশ্নও নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Exit mobile version